তিন ফিফটিতে বাংলাদেশ ২৯৪/৬

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৯ এএম

সেন্ট কিটসে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে করেছে ৬ উইকেটে ২৯৪ রান। হাফসেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ।

গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগের আসর সেরা হয়ে আসা সৌম্য সরকারকে ইনিংসের গোড়াপত্তনে পাঠায় বাংলাদেশ। সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিম, এই ক্যারিবিয়ানেই মাসছয়েক আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যার কেটেছিল তিন শুন্যের যোগফলে দুঃস্বপ্নের মত। 'ছোট' তামিম নামেই ক্রিকেটঅঙ্গনে পরিচিত এই বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সেন্ট কিটসে যে ইনিংসটা খেললেন সেটা মনে করাল 'বড়' তামিম অর্থাৎ তামিম ইকবালকে। জাতীয় দলে তামিম মানেই বোধহয় নোঙ্গরের ভূমিকা!

সৌম্যকে দেয়া হয়েছিল হাতখুলে খেলার লাইসেন্স, ৩ বাউন্ডারিতে ১৮ বলে ১৯ রান করে সৌম্য বুঝিয়ে দিয়েছেন গ্লোবার সুপার লিগ আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্যটা।  ওয়ানডাউনে নামা লিটন দাস যথারীতি দৃষ্টিকটু খোঁচায় ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে, করেছেন ২ রান।

৩৪ রানে প্রথম উইকেটের পর ৪৬ রানে যখন দ্বিতীয় উইকেটের পতন, তখন মনের ভেতর কুডাক ডাকতেই পারে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাটিং ধ্বসের শুরুটা তো হয় এভাবেই। চারে নেমে গেলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। সঙ্গে তামিমকে নিয়ে খানিকটা ধীরস্থির হয়ে খেলা, চাপটা শুষে নয় ক্যারিবিয়দের আধিপত্যের সময়টাকে পার করে দেয়া।

এরপর আস্তে আস্তে নিজেরা শট খেলতে শুরু করেছেন, রানও এসেছে। ৯৭ বলে ৭৯ রানের জুটিটা ভাঙ্গে তামিমের হাফসেঞ্চুরির একটু পর, রোস্টন চেজের স্পিন বলে কাট করতে গিয়ে  শর্ট থার্ড ম্যানের ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৬০ বলে ৬০ রান করা তামিম।

এরপর মিরাজ এবং আফিফ ভালই খেলছিলেন, বারবার প্রান্ত বদল আর সুযোগ পেলে বাউন্ডারি; এই নীতিতে দুজনে ৬২ বলে ৫৪ রান যোগ করেন। আফিফ লেগ সাইডে  উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হলে আসেন মাহমুদউল্লাহ। এই মাঠে ৩ইনিংসে তার দুটো হাফসেঞ্চুরি ছিল, রবিবার চতুর্থ ইনিংসে হল তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। এই মাঠে তার গড় ১৯৫! ৩ টা করে চার ও ছক্কা  মেরে ৪৪ বলে ৫০রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

তামিম আর মাহমুদউল্লাহ, দুই প্রজন্মের দুজনের দুই হাফসেঞ্চুরিকে জুড়েছেন মিরাজ। তার ১০১ বলে ৭৪ রানের ইনিংসটাই বাংলাদেশের গাঁথুনি। যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে জাকের আলি খেলেছেন ৪০ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। টেস্ট ম্যাচেই তাকে দেখা গেছে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করতে, আর এবার তো ওয়ানডে। ৩ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কা মেরেছেন জাকের।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে হাফসেঞ্চুরিও পেতেন। তবে শেষ ওভারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়ায় ২ রানের আক্ষেপ হয়তো পোড়াবে তাকে, তবে এই ৪৮ রানের ইনিংসের জন্যই তো তিনশ ছুঁই ছুঁই রান হল। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৯৪ রান, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। সর্বোচ্চ ৩০১ রান এই মাঠেই, ২০১৮ সালে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত