প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও কোষাধ্যক্ষ পদত্যাগের পর থেকে এই তিন পদ শূন্য রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ট্রাস্টিবোর্ড গঠনের এক প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি চসিকের সম্পত্তি হিসেবে চিঠি পেলেই কাজ শুরু করা হবে। একইসঙ্গে সম্পত্তি বুঝে নিয়েই প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে সাজাতেও প্রস্তুত চসিক।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে নগরের টাইগারপাসস্থ চসিকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চসিকের ন্যায্য হিস্যা আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরে পাবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিজস্ব টাকায় কেনা, তাই এটা চসিকেরই সম্পত্তি। এটা পাওয়ার জন্য চসিকের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়মানুসারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবশেষ আপডেট হচ্ছে চসিকের পক্ষেই রায় এসেছে। কোর্টে যেটা নিষেধাজ্ঞা আছে সেটার জন্য আইনজীবী প্যানেলের শরণাপন্ন হয়েছি। বাকি সবকিছু চসিকের পক্ষেই আছে। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। চসিকের ন্যায্য যে হিস্যা, চসিকের যে সম্পত্তি মাফিয়া চক্র দখল করেছিল সেটা আবারো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং যথাযোগ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসির সেই পক্রিয়ার মাধ্যমে সেটা ফিরে পাব। একটু সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন অপেক্ষা করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বুঝিয়ে দিবে যে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চসিকের সম্পত্তি। ওই পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরছি। চিঠিটা পেয়ে গেলে চসিকের এই সম্পত্তি বুঝে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ শুরু করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিদের চিন্তা করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য যাদের চিন্তা করা হচ্ছে তারা অত্যন্ত দক্ষ এবং বিজ্ঞ। ওই ধরনের লোক আনতে চাই যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ এটা পরিচালনা করুক। ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এমন কাউকে পরিচালনার দায়িত্বে রাখতে চাই না। প্রফেশনালিজম বোর্ডের মাধ্যমে সেটা হবে।’
একইসঙ্গে কোনো পরিবারতন্ত্র এবং মাফিয়া চক্রের হাতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধক দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চসিক বুঝে পাওয়া পর নিয়ম জারির কথা উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চসিক বুঝে পেলেই সেখানে এমন নিয়ম জারি করা হবে। যাতে কোনো মেয়র নিজের সম্পত্তি হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় করায়ত্ত করতে না পারে। এ আইনটা সেখানে রাখা হবে। নিজের সম্পত্তি যাতে করতে না পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৫ হাজার শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করেছে। তাদের অনেকের অভিভাবক চসিকে এসেছে, বাসায় গিয়েছে। তারা খুব উৎকুণ্ঠিত। তাৎক্ষণিকভাবে বলেছি, এটা যেহেতু চসিকের সম্পত্তি তাহলে এটা সিটি করপোরেশন দেখবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরতদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা অনেকদিন সেখানে নিষ্পেষিত ছিল। অনেক শিক্ষক প্রমোশন পাননি। অনেক ছাত্র নিগ্রিহিত ছিল। তাই তারা আন্দোলন করেছে। একপর্যায়ে উপাচার্য, প্রক্টর পদত্যাগ করেছে। যারা আন্দোলন করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে সবকিছু ৫ আগস্টের পরবর্তী নিয়মের মধ্যে রাখতে হবে। এর মধ্যে যদি আবারো কোনো অনিয়ম করতে চাই, মাফিয়া চক্রের হাতে পড়ে যায়, তাহলে অর্জিত স্বাধীনতা বিফল হয়ে যাবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। আইনের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না। আইন আইনের গতিতে চলবে।’
সংখ্যালঘু হামলার ৮৮ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেই ‘সি ইউ নট ফর মাইন্ড’ শ্যামল