ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদাম সরাতে বেবিচকের গড়িমসি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৪ এএম

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত বিমান ওঠানামা করে। কেপিআইভুক্ত সংবেদনশীল এই বিমানবন্দরের ঠিক পাশেই রয়েছে কার্গো ও কেমিক্যালের গুদাম। এই গুদাম যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে বড় বিস্ফোরণের শঙ্কা রয়েছে। গুদামটি বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা থেকে সরানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে এটি সরানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে ছয় মাস পর চলতি ডিসেম্বরে বেবিচক এটা সরানোর জন্য কমিটি গঠন করেছে। গত ৭ ডিসেম্বর করা কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বেবিচক সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেমিক্যাল গুদামে এখন তেমন কেমিক্যাল নেই। এটা আমরা অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এর জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী স্থান নির্ধারণ করে বিল্ডিং তৈরি করে অন্য জায়গায় নেওয়া হবে।’

বেবিচক এই গুদামকে ঝুঁকিপূর্ণ বলতে নারাজ। কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানের যে কার্গো ও কেমিক্যাল গুদাম রয়েছে তা নিরাপদেই আছে। সেভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই গুদাম সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুদান সরাতে সব মিলিয়ে আরও আট মাস সময় নিতে চায় বেবিচক। তবে বিপরীত মত কার্গো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।

একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলছেন, পৃথিবীর সব দেশেই কার্গো এবং কেমিক্যাল গুদাম বিমানবন্দর থেকে নিরাপদ দূরত্বে এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হয়। যেন দুর্ঘটনা না ঘটে। ঘটলেও যেন বিমানবন্দরে এর কোনো প্রভাব না পড়ে। কিন্তু আমাদের এখানে কার্গো গুদামটি অনেক পুরনো হওয়ায় এটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। কোনো রকমে কাজ চলছে। আর কেমিক্যাল গুদামটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গুদামে নানা ধরনের কেমিক্যাল থাকে। কিছু কেমিক্যাল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। এগুলোর মাধ্যমে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ হতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে এই গুদাম নিরাপদ দূরত্বে থাকাই ভালো। এ ছাড়া কেপিআইভুক্ত এলাকায় এই ধরনের স্থাপনা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২২তম সাধারণ সভা বর্তমান কার্গো গুদাম ও কেমিক্যাল গুদামকে ডেঞ্জারাস আখ্যা দিয়ে এগুলো টার্মিনাল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আলোকে গত ৭ ডিসেম্বর বেবিচক একটি কমিটি গঠন করে। বেবিচকের এ-সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে ডেঞ্জারাস কার্গো গুদাম ও কেমিক্যাল গুদামটি টার্মিনাল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন ও ওই জায়গাতে ভেজারাস কার্গো ও কেমিক্যাল গুদামজাতের জন্য যথাযথ স্থাপনা নির্মাণ করা প্রয়োজন। এজন্য সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি বেবিচকের পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, সদস্য সিভিল বিভাগ-৩ (সি.সি)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল), এফএসআর বিভাগের পরিচালক (এএসএস ইন্সপেকশন), ঢাকা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, বেবিচকের উপপরিচালক (এভসেক অপস), এভসেক বিভাগের সহকারী পরিচালক (এভসেক পলিসি) এবং বিমানের মহাব্যবস্থাপক (কার্গো)। এই কমিটি বিমানবন্দরের বিপজ্জনক কার্গো গুদাম হস্তান্তর, হস্তান্তরের জায়গা ও স্থাপনা নির্মাণের সুপারিশ প্রতিবেদন আকারে ১৫ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গুদাম সরাতে গড়িমসি ভূমিকার ব্যাপারে জানতে চাইলে এয়ার কমোডর মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান খান বলেন, ‘বললেই সরানো যায় না, এগুলো করতে তো সময় লাগে। এখন যে কেমিক্যালগুলো আছে, তা সুরক্ষিত আছে। ভালো হয় যদি এই গুদামটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায়। আমরা সেটা করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটা করার জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। স্থান নির্ধারণের পর বিল্ডিং বানানোর জন্য টেন্ডার দিতে হবে। এসব করতে সাত থেকে আট মাস সময় লাগতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত