সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক কর্মক্ষেত্রের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, বিপজ্জনক কর্মক্ষেত্রগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। সে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশে নিহত হয়েছেন। আরএসএফের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানের তালিকার শীর্ষে আছে ফিলিস্তিনের গাজা। এরপরই অবস্থান করছে পাকিস্তান। দেশটিতে চলতি বছর দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন সাত সাংবাদিক। তালিকার পরের নাম দুটি হলো বাংলাদেশ ও মেক্সিকো। উভয় দেশে পাঁচজন করে সাংবাদিক নিহত হন। আগের বছর ২০২৩ সালে বিশ্ব জুড়ে সাংবাদিকদের নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৫।
আরএসএফের এই বার্ষিক প্রতিবেদনে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে,ফিলিস্তিন এখন সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। গত পাঁচ বছরে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এ বছর ফিলিস্তিনে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি। নিহতদের এক-তৃতীয়াংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। আরএসএফ বলছে, এ বছর ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রাণহানি হয়েছে ১৮ জন সাংবাদিকের। তাদের মধ্যে ১৬ জন গাজায় ও দুজন লেবাননে নিহত হন।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ জমা দিয়েছে সংগঠনটি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার সংঘাত শুরুর পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে ১৪৫ জনেরও বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জন সংবাদ সংগ্রহের সময় নিহত হন বলে জানায় আরএসএফ। প্রতিবেদনে এ হত্যাযজ্ঞকে নজিরবিহীন রক্তস্নান হিসেবে অভিহিত করা হয়। ইসরায়েল জ্ঞাতসারে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মারসার। তবে তেল আবিব বলছে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিমান হামলা চালানোর সময় কয়েকজন সাংবাদিক নিহত হয়ে থাকতে পারে। আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ৫৫ জন সাংবাদিক জিম্মি অবস্থায় আছেন। জিম্মিদের মধ্যে ২৫ জনই ইসলামিক স্টেটের হাতে আটক রয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালে ৯৫ জন সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন।
