দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি কমেছে। কমে গেছে ফার্নেস অয়েল, ক্রুড অয়েল, পাথর, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের আমদানি। ফলে কাক্সিক্ষত রাজস্ব পাচ্ছে না চট্টগ্রাম কাস্টমস। চট্টগ্রাম কাস্টমস এর তথ্য বলছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পাঁচ মাসে ৩৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকা কম। যদিও এই সংখ্যা গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বেশি।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবং লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করলে রাজস্ব আয় কম হয়েছে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পসহ সামগ্রিক সব ক্ষেত্রে আমদানি পণ্য কমে যাওয়ার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায়ে পড়েছে।’ এই কর্মকর্তা জানান, আগের বছরের তুলনায় এ বছর নভেম্বর মাসেও কম আমদানি হয়েছে। কমেছে রাজস্বও।
কাস্টমস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায়, হাইস্পিড ডিজেল ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৩১ লাখ ৫ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন আমদানি হলেও এ বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৭০ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন, ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন পাম অয়েল গত বছরের নভেম্বরে আমদানি হলেও এবার হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন। একইভাবে সিমেন্ট ক্লিংকার, ফার্নেস অয়েল, চিনি, ক্রুড অয়েল, পাথর, কমলাসহ বিভিন্ন ধরনের ২০টি আইটেম তুলনামূলকভাবে কম আমদানি হয়েছে।
দেশে ক্রুড অয়েল ও ডিজেলের প্রধান আমদানিকারক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তেলের আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অপারেশন) অনুপম বড়ুয়া বলেন, একসময় দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে শক্তিশালী জেনারেটর চলত। কিন্তু এখন এসব প্রকল্প ধীরগতির হয়ে যাওয়ায় ডিজেলের চাহিদা কমে গেছে এবং গ্রাম এলাকায় সেচ কাজেও এখন আর আগের মতো ডিজেল ব্যবহার হয় না। ফলে ডিজেলের বাজার কমছে। একইভাবে কমছে ক্রুড অয়েলের পরিমাণও।’
দেশের উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য হলো সিমেন্ট শিল্প। বর্তমানে দেশে ৩৭টি সিমেন্ট কারখানার জন্য বছরে দুই থেকে আড়াই কোটি মেট্রিক টন ক্লিংকার আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু মেগা প্রকল্পগুলো সচল না থাকায় কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা থাকার পরও উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এখন সিমেন্ট কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ ক্লিংকার কম আমদানি হচ্ছে। আর এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব সংগ্রহে।’
দেশের সবচেয়ে বৃহৎ স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম ইতিমধ্যে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বিএসআরএমর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘দেশে উন্নয়ন কোনো প্রকল্প নেই। কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই স্টিলেরও বাজার নেই। যথারীতি আমাদের উৎপাদন কমিয়ে ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হয়েছে। ফলে স্টিল তৈরির কাঁচামালের আমদানি কমেছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চলমান রাখার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তিনি।
