চব‘ র উপ-উপাচার্য

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আর্কাইভ প্রকাশের ঘোষণা দিতেই নিখোঁজ হন জহির রায়হান

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:২৭ পিএম

একটা কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করে বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সরকারের প্রতি এমন আহ্বান জানান উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক মহলের চক্রান্তে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যেন স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ অর্জন করতে না পারে, যেন স্বাধীন হয়েও পরাধীনভাবে বেঁচে থাকে সেই চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, সরকার একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করে বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। 

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বলেন, বুদ্ধিজীবীরা ছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের পরিকল্পিতভাবে একটি আন্তর্জাতিক মহল হত্যা করেছে। একক কোনো গোষ্ঠী এখানে জড়িত ছিল না বরং আন্তর্জাতিক চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তারা। 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি বাহিনীকে ১৬ ডিসেম্বরের বহু আগেই তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। তারা শেষ সময়ে পাকিস্তান পালাতে ব্যস্ত ছিল। আরেকটা সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো শক্তি তাদের অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে ১৪ ডিসেম্বর কারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। সেই প্রশ্নের একমাত্র উত্তর হলো একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, যেন স্বাধীন দেশ হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারি, আজীবন পঙ্গু জাতি হিসেবে থাকি। যার উদাহরণ আমরা গত ১৫ বছরে দেখেছি। 

শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্পদ ছিল জহির রায়হান। কারণ, এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কার কোন অবদান আছে, কে কতটুকু স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে আর বিপক্ষে কাজ করেছে, তা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তার কাছে অনেক ধরনের আর্কাইভ ছিল। কিন্তু তিনি যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন, আমি দ্রুতই সেসব আর্কাইভ প্রকাশ করতে যাচ্ছি এরপরই তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। বাঙালি জাতি আজ পর্যন্ত জহির রায়হানের খোঁজ পাইনি।  

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় শত্রু কারা তাদের চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, এতে আমাদের জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতীয় শত্রুকে পরাজিত করে একটি স্বনির্ভর জাতি হিসেবে এগিয়ে যাবো।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ছাত্রছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আল উদ্দিন মজুমদারসহ আরও অনেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত