অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাল হচ্ছে কোহলির

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:২৫ পিএম

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বিরাট কোহলি কি প্রতি ম্যাচেই একইভাবে আউট হবেন?  পরিসংখ্যান যেন এমনটাই বলছে। কোহলির ব্যাটিং মানেই কভার ড্রাইভে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন চার মারার পর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে আউট। উইকেটরক্ষক, স্লিপ বা গালিতে দাঁড়ানো ফিল্ডার— কেউ না কেউ ক্যাচ ধরে নিশ্চিত করেন বিরাটের বিদায়। ধারাবাহিকতার এমন একরকম রূপ দেখছে ভারতীয় ব্যাটিং। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ মানেই ভোরবেলা উঠে খেলা দেখা। গত দুই সিরিজে ভারতের সাফল্যের পর এবারও আশায় বুক বেঁধেছিলেন সমর্থকেরা। পার্থে প্রথম ম্যাচ জিতে সেই আশা আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল ভারত। কিন্তু অ্যাডিলেডে গোলাপি বলের ম্যাচে লজ্জাজনকভাবে ১০ উইকেটের হার স্পষ্ট করে দেয়, অতীত সাফল্য ধরে বসে থাকলে চলবে না।

ব্যাটিং লাইনআপের এমন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভারতের সামর্থ্য নিয়ে। পার্থে জেতার পরও প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫০ রানে অলআউট হয়েছিল ভারত। অ্যাডিলেডে দুই ইনিংসেই ২০০ রানের নিচে (১৮০ এবং ১৭৫) গুটিয়ে গিয়েছিল রোহিত শর্মাদের ইনিংস। এবার ব্রিসবেনের বাউন্সি উইকেটে সেই দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠল। 

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৪৪৫ রান করার পর ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। কিন্তু শুরুটা যেন বিপর্যয়ের বার্তা দিয়েই আসে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মিচেল স্টার্কের বলে যশস্বী জয়সওয়াল ক্যাচ তুলে দেন ফরওয়ার্ড শর্ট লেগে। দুই বলের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তরুণ ওপেনার। শুভমন গিলের আউটের ক্ষেত্রে মিচেল মার্শের চমৎকার ক্যাচ নজর কাড়লেও, আউট হওয়ার ধরন ছিল একই। অফ স্টাম্পের বাইরে বারবার প্রলোভন দেওয়া বল খেলে ফাঁদে পড়েন শুভমন। 

আর বিরাট কোহলি? তারকা ব্যাটারের সেই পুরোনো দুর্বলতাই যেন ভারতীয় দলের বড় মাথাব্যথার কারণ। পার্থে শতরান করার পরও ধারাবাহিকভাবে অফ স্টাম্পের বাইরের বলেই আউট হচ্ছেন তিনি। ব্রিসবেনেও জশ হেজেলউডের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। একই ধরনের ভুল করেন ঋষভ পন্থ। প্যাট কামিন্সের মিডল স্টাম্প থেকে বাইরের দিকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া বল খোঁচা দিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। 

ভারতীয় ব্যাটারদের এমন দুর্বলতা দেখে প্রশ্ন উঠেছে দলের ব্যাটিং কোচের ভূমিকা নিয়ে। আসলে, গৌতম গম্ভীরের কোচিং স্টাফে আলাদা কোনো ব্যাটিং কোচই নেই। গম্ভীর নিজেই ব্যাটার ছিলেন এবং সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারও ব্যাটার ছিলেন। তবে তাঁদের কোচিং দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। 

ভারতের ব্যাটিং সমস্যা নিয়ে সঞ্জয় মানজেরকার টুইট করেছেন, ‘ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় হয়েছে। ব্যাটারদের টেকনিক্যাল সমস্যা কেন ঠিক হচ্ছে না?’ মানজেরকার হয়তো জানেন না যে ভারতীয় দলে কোনো ব্যাটিং কোচই নেই। তবে রাহুল দ্রাবিড়ের সময় ব্যাটিং কোচের ভূমিকা পালন করেছিলেন বিক্রম রাঠৌর। 

গম্ভীর কি তবে ভেবেছেন, তিনি থাকতে আলাদা ব্যাটিং কোচের প্রয়োজন নেই? তবে ব্রিসবেনের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, নতুন করে ভাবনার সময় হয়তো এসে গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত