নির্বাচনী ঘোষণায় আশাবাদী ব্যবসায়ী অর্থনীতিবিদরা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিক থেকে পরবর্তী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে করা যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার বিজয় দিবসে তার এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘোষণা স্বস্তি আনবে। তিনি বলেন, ‘এটি রোডম্যাপ নয়, এটা একটা টাইমলাইন, যা অনিশ্চয়তা কমাবে। অন্তর্বর্তী সরকার আরও এক বছরের জন্য আছে, তাই তারা তাদের সংস্কার চালিয়ে যাবে। এর সবই মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে এবং আমি এটাও মনে করি, বাজারে এর প্রভাব পড়বে।’

অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনা প্রদান করছে। এটি বিশেষত আন্তর্জাতিক বাজারে যারা ব্যবসা করছেন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রেতারা প্রায়ই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্পর্কে জানতে চায়। এই ঘোষণা আমাদের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ব্যবসাগুলো মানবাধিকার এবং শাসনব্যবস্থার বিষয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে এই নতুন সংস্কার স্থিতিশীলতার দিকে একটি পরিবর্তনের সঙ্কেত দেয়, যা বৈশ্বিক ক্রেতাদের বাংলাদেশে তাদের অংশীদারত্ব শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তা অবশ্যই শেষ করতে হবে কারণ এটি হাজার হাজার নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের রক্ত এবং ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন অন্তর্বর্তী সরকারকে শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যা অর্থনৈতিক কর্মকা- টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরে আসবে। এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধি করবে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত