দীক্ষিতের লেখার উদ্ধৃতিতে জবাব মোদির পোস্টের

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১৪ এএম

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া পোস্ট ভালো চোখে নেয়নি সরকার। গত সোমবারের ওই পোস্টে বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি। মোদির এমন বক্তব্যের জবাবে তার দেশেরই সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জে এন দীক্ষিতের একটি লেখার উদ্ধৃতি টেনেছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে ‘ইতিহাসের তথ্য’ শীর্ষক ওই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেখানে মোদির বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ৯ মাসব্যাপী নৃশংস যুদ্ধ সহ্য করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।’ ‘লিবারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড : ইন্দো-বাংলাদেশ রিলেশনস’ শিরোনামের বইয়ে, প্রাক্তন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব, কূটনীতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রয়াত জে এন দীক্ষিত লিখেছেন, ‘আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সামরিক হাইকমান্ডের একটি বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল যৌথ কমান্ডের বাংলাদেশ পক্ষের কমান্ডার জেনারেল এমএজি ওসমানীর উপস্থিতি নিশ্চিত এবং স্বাক্ষরকারী করতে ব্যর্থতা। তার অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অজুহাত ছিল যে, তার হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করেছিল, কিন্তু আত্মসমর্পণের সময়সূচি অনুযায়ী সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু ব্যাপক সন্দেহ ছিল যে, তার হেলিকপ্টারটি ভুল পথে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তিনি সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে না পারেন এবং অনুষ্ঠানে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ভারতীয় সামরিক কমান্ডারদের ওপর নিবদ্ধ হয়। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক বিচ্যুতি ছিল, যা ভারত এড়াতে পারত। এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর উপস্থিতি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম দিনগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, এমন অনেক রাজনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সাহায্য করতে পারত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের গৌরবময় বিজয় উদযাপন করি; আমরা সত্য উদযাপন করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত