উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যমান কোটা ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশে নামানোর সুপারিশ করার কথা জানিয়েছে জনসংস্কার কমিশন। আর এই বক্তব্য প্রচারের পরই জনসংস্কার কমিশনের এমন সুপারিশের তীব্র বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে বিসিএস কাঠামোর বাইরে রাখার সুপারিশ সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ সংশোধন দাবি প্রশাসন ক্যাডারের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বাসা) এবং বিসিএস জেনারেল এডুকেশন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়ে এই প্রতিবাদের কথা জানানো হয়। সংগঠনগুলো গত মঙ্গলবার কমিশনের সুপারিশ জানার পরপরই জরুরি বৈঠক করে প্রতিবাদ জানানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘উপসচিব পদোন্নতি প্রত্যাশী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতামত জরিপ কিংবা সমীক্ষার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে পর্যাপ্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি করা হয়নি। ফলে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মাঠ প্রশাসনসহ সব স্তরে কর্মরত বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন কমিশন প্রধানের এই বক্তব্যের এবং প্রতিবাদসহ প্রতিবেদনটি সংশোধনের আহ্বান জানাচ্ছে।’
বাসা’র নেতারা বলেন, উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদে শতভাগ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন হওয়া উচিত। প্রথমত, রাষ্ট্রে প্রশাসন ক্যাডারের কার্যপরিধির সঙ্গে নীতি প্রণয়নের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের একটা বড় পার্থক্য হলো প্রশাসন ক্যাডারের কাজের ধরন সামগ্রিক, যেখানে অন্যান্য ক্যাডারের কাজের ধরন নির্দিষ্ট ও বিশেষ প্রকৃতির। সরকারের নির্বাহী বিভাগের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে সহকারী কমিশনার/সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট একমাত্র পলিসি (নীতি) নয় বরং সব পলিসি বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারাই করে থাকেন। দ্বিতীয়ত, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নম্বর ও পছন্দের ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তারা ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন এবং মেধার ভিত্তিতেই এই ক্যাডার শ্রেণিভুক্তকরণ করা হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্র্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় অধিক নম্বর পেয়েই কর্মকর্তারা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে শ্রেণিভুক্ত হন সেহেতু সাম্যের স্বার্থেই প্রশাসন ক্যাডারের ভিন্নভাবে বিবেচ্য হওয়ার যৌক্তিক কারণ উদ্ভূত হয়েছে।
জুলাই-বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম যুগোপযোগী, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার সিভিল প্রশাসন বিনির্মাণে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারকে পৃথক করে আগের মতো সব পদ অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাসা।
এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বিসিএস সাধারণ শিক্ষাকে ক্যাডার কাঠামোর বাইরে রাখতে সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে যে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংবাদমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার ও বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারকে কাঠামোর বাইরে রাখার সুপারিশ করতে যাচ্ছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ হাজার সদস্যের একক মুখপাত্র বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করছে। ২০১২ সালে অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা আমরা প্রতিহত করেছি। বিষয়টি মীমাংসিত। সংস্কারের মাধ্যমে সব বৈষম্য নিরসন ও গতিশীল জনবান্ধব জনপ্রশাসন তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিশনের এ ধরনের সুপারিশ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈষম্যবিরোধী মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এ সুপারিশ প্রত্যাহার করা না হলে কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার ব্যর্থ হবে।’
