অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক মায়ের চার অপরিণত নবজাতকের জন্মদানে সফলতা দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। চার নবজাতকই এখন সুস্থ আছে। তবে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এই শিশুদের চিকিৎসকদের নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।
বিএসএমএমইউর নিওনেটোলজি (নবজাতক) ও ফিটোম্যাটার্নাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ও নার্সদের নিবিড় চেষ্টায় এই সফল অস্ত্রোপচার হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক মায়ের চার সন্তান জন্মদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতার এই তথ্য জানানো হয়।
চার নবজাতকের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, তার একটি সুস্থ নবজাতকের ওজন আড়াই থেকে চার কেজি পর্যন্ত হলেও জন্মের সময় তার সন্তানদের ওজন ছিল ১১৩০ গ্রাম থেকে ১২৭৫ গ্রাম পর্যন্ত। এত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করার পরও তার সন্তানরা সুস্থ থাকায় তিনি বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ সময় এক নবজাতককে কোলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, চার নবজাতকই কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। ফলে তাদেরকে সুস্থ রাখা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।
নিওনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এই চার নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের ছিল। তারপরও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুস্থ রাখা সম্ভব হয়েছে।
ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীন বলেন, ‘একসঙ্গে চার সন্তানের গর্ভধারিণী জননীর সফলভাবে ওটি সম্পন্ন করা সার্জনদের জন্য একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। এক্ষেত্রে আমরা সফল হলেও এসব শিশুকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।’ ডা. নুজহাত নূয়েরি জুঁই জানান, কম ওজনের অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে ভাইরাস, ফাঙাসসহ যেকোনো ধরনের সংক্রমণের উচ্চমাত্রার ঝুঁকি থাকে। জন্মের পর এই চার নবজাতকের প্রত্যেককে কমপক্ষে পাঁচ দিন ইনকিউবিটরে রাখা হয়েছিল।
