বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া ১৯ নাবিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নৌ অধিদপ্তর। এসব নাবিক আমেরিকা, ব্রাজিল, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বন্দর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের এই পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনকে বিপুল অংকের টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে এবং পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি নাবিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মাকসুদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে এই ১৯ জন নাবিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে নেমে পালিয়ে যায়। এতে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার যেমন সংকুচিত হচ্ছে তেমনিভাবে যে কোম্পানির জাহাজ থেকে নাবিক পালানোর ঘটনা ঘটে সেসব কোম্পানির জাহাজ সংশ্লিষ্ট বন্দরে ভিড়তে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।’
এখন পালিয়ে যাওয়া নাবিকদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাকসুদ আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। নৌ আদালতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। কতিপয় নাবিকদের কারণে তো দেশের নাবিকদের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না।
জানা যায়, নাবিকদের একটি অংশ আমেরিকা, ইউরোপ ও দুবাইসহ উন্নত দেশে পালিয়ে যায়। আর তারা আগে থেকেই পালানোর বিষয়টি নির্ধারণ করে রাখে। নাবিক হিসেবে কয়েক বছর চাকরির পর বিশ্বস্ততা অর্জন করার পর উন্নত দেশের বন্দরে যাওয়ার ভয়েস যখন পেয়ে যায় তখনই তারা সুযোগ বুঝে জাহাজ থেকে পালিয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে তারা বন্দরের বহিঃনোঙ্গর থেকে বোটে করে পালিয়ে যায় বেশিরভাগ সময়ে। তবে বন্দরের ভেতরে প্রবেশের পর অনেকে সেদেশের ভেতরে প্রবেশের অস্থায়ী অনুমোদনও পেয়ে থাকে। কিন্তু প্রবেশের পর আর জাহাজে ফিরে আসে না। এই ফিরে না আসাই দেশের নাবিকদের চাকরির বাজার ছোট হয়ে আসছে। ফলে বহির্বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ দিতে চায় না।
এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ১৯ নাবিক হলেন- কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার দেবালেরকান্দা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে সোহানুর রহমান, নাটোরের বাগাতিপাড়ার চকতকিনগর গ্রামের মাজেদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, ফেনীর দাগনভূঁইয়ার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার দক্ষিণ হালিশহর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মোস্তফা কামাল, নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জের মুছাপুর গ্রামের গোলাম সরোয়ারের ছেলে ইসকান্দর মিজি, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গাছুয়া গ্রামের হারুন রশিদের ছেলে মো. সানাউল্লাহ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘাটলা গ্রামের সদরুল উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ারুজ্জামান, দিনাজপুরেরবিরল থানার মির্জাপুর গ্রামের শফি উদ্দিন আহমেদের পুত্র আব্দুল কুদুস, আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উলচাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ওপি হোসেন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার মধ্য বাউশিয়া গ্রামের হাফিজ মিয়ার পুত্র রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের স›দ্বীপ থানার মগধরা গ্রামের আবদুল ওয়াশেকের পুত্র মিজানুর রহমান, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের পূর্ব চর হাজারী গ্রামের শেখ নজির আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ শেখ আলম, নোয়াখালীর সোনাইমুরি উপজেলার আমকি গ্রামের মোর্শেদ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান, জামালপুর সদরের লক্ষিরচর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে আল আমিন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মির্জানগর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মো. ইমাম হোসেন, নেত্রকোণার খালিয়াজুরি থানার শালদিগা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে এনামুল হক, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বাসারাত নগর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইমরুল হোসেন ও চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার পশ্চিম অলিনগর গ্রাজমের আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এসব নাবিক সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা নিকটস্থ থানা অথবা নৌ অধিদপ্তরে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের যুগেও এমআরপি
হাসান আরিফের অভিমত প্রেরণার উৎস: তারেক রহমান