মরদেহের খণ্ডাংশ আনারের, ডিএনএ মিলল মেয়ের সঙ্গে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৭ এএম

বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার কলকাতায় নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পরে জানা গেল উত্তর ২৪ পরগনায় দেহখ- তারই। আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে দেহখণ্ডের নমুনার মিল পাওয়া গেছে বলে কলকাতা পুলিশ নিশ্চিত করেছে। কলকাতার সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ডরিনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

আগেই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছিল, গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে কলকাতায় এসে ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস।

গত ১২ মে ভারতে আসেন আনোয়ারুল আজীম। তিনি পূর্বপরিচিত গোপাল বিশ্বাসের পশ্চিমবঙ্গের বরানগরে বাড়িতে ওঠেন। পরদিন ১৩ মে চিকিৎসা করাতে যাবেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু ওই দিন রাতেই নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের বহুতল আবাসনের ‘বিইউ-৫৬’ ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে তাকে খুন করা হয়।

তদন্ত নেমে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, আনোয়ারুল আজীম পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যে একাধিক আইনবহির্ভূত লেনদেনের মধ্যে জড়িত ছিলেন। তার মধ্যে প্রধান যে বিষয়টি ছিল সোনা পাচার। তিনি বাংলাদেশে বড় সোনার পাচারকারী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেই সোনা পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি নেটওয়ার্ক চালাত।

আনোয়ারুল আজীম খুনের ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার অন্যতম অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক সিয়াম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় আনোয়ারুলকে খুন করে, দেহ টুকরো টুকরো করে তা নষ্ট করার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক অভিযুক্ত পেশায় কসাই জিহাদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ারুলের শরীর থেকে মাংস আলাদা করে সেগুলোকে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে। পরে লাশের টুকরো পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার ভাঙ্গড় ব্লকের কৃষ্ণমাটি খাল এলাকায় ফেলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত