গার্দিওলার আরেক 'ভুল' মরগান রজার্স

আজ ভিলাপার্কে পেপ গার্দিওলের সঙ্গে আবার দেখা হবে মরগ্যান রজার্সের 

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:০৪ পিএম

মরগান রজার্সের ক্যারিয়ারে দুটি বিশেষ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, সমালোচকদের ভুল প্রমাণিত করা এবং সুযোগ পেলে সেটিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো। দ্বিতীয়ত, কোনো নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে এমন অসাধারণ পারফর্ম করা যে প্রতিপক্ষ তাকে দলে ভেড়াতে বিশাল অঙ্ক খরচ করতে বাধ্য হয়।  

২০১৯ সালে এফএ ইয়ুথ কাপে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন রজার্স। এতটাই প্রভাবিত হয়েছিল সিটি যে, পেপ  গার্দিওলা তাকে দলে ভেড়াতে ৪০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছিল। বছর কয়েক পর, ম্যানচেস্টার সিটি থেকে মিডলসবরো হয়ে তিনি পা রাখেন অ্যাস্টন ভিলায়। এফএ কাপে মিডলসব্রোর হয়ে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উনাই এমেরিকে প্রভাবিত করেছিল এবং ভিলা ১.৫ কোটি পাউন্ড খরচ করে তাকে দলে ভেড়ায়। এরপর থেকে রজার্স আর পেছনে ফিরে তাকাননি।  

রজার্সের শৈশব কাটে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নে। যদিও ম্যানচেস্টার সিটির প্রস্তাবে তাকে ছাড়তে হয় প্রিয় ক্লাব। রজার্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “মনে একটা দ্বিধা ছিল। তবে আমার ক্যারিয়ারের জন্য এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এক জীবনে এমন সুযোগ বারবার আসে না। নিজের উন্নতির জন্য আমাকে কমফোর্ট জোন ছেড়ে বেরোতে হয়েছিল।”  

সিটির ইয়ুথ টিমে খেলতে গিয়ে রজার্স ছিলেন অনন্য। ২০১৯ সালের ইয়ুথ কাপজয়ী সেই দল থেকে কোল পামার, টমি ডয়েল, টেলর হারউড-বেলিস, লিয়াম ডেলাপ, জেমস ম্যাকাটির মতো তারকারা উঠে এসেছেন। এদের মধ্যে রজার্সের ক্যারিয়ার আলাদা মাত্রা পেয়েছে।  

অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়ার পর রজার্স এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তিনি এখন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সদস্য এবং নিয়মিত চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছেন। যদিও ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু ভিলায় তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে যে তিনি কতটা পরিণত হয়েছেন।  

গত মৌসুমে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে পুনর্মিলনের সময় ম্যানচেস্টার সিটির কোচ তাকে এমন কিছু বলেছিলেন, যা সাধারণত মিডিয়াতে শোনা যায় না। রজার্স দ্য পরে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “তার জন্য এটা যেন একটা স্বস্তির অনুভূতি ছিল। উনি সব সময় জানতেন যে আমার মধ্যে কী ছিল, এবং এখানে [ভিলায়] সেটা তিনি দেখেছেন।"  

“ম্যান সিটিতে থাকার সময় তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, কিন্তু এখানে তিনি সেটা দেখতে পেয়েছেন। এটা আমার জন্য বড় একটি ব্যাপার ছিল কারণ এটা প্রমাণ করে আমি কতটা এগিয়েছি, কীভাবে আমি নিজেকে আরও ভালো করেছি এবং পরিণত হয়েছি।  

"এই কথাগুলো আমার মনে থাকবে কারণ তা আমার জন্য একটি বড় বিষয় ছিল। অবশেষে আমি তার দেখানো প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি, তার চাওয়া জিনিসটা উপস্থাপন করতে পেরেছি। ম্যান সিটিতে থাকা সময়টা হয়তো আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায় ছিল না, তবে সেই সময়টা আমাকে গড়ে তুলতে এবং এমন একজন খেলোয়াড় তৈরিতে সাহায্য করেছে, যা আমি এখন।”  

রজার্সের যাত্রাপথ সহজ ছিল না। ব্ল্যাকপুল এবং বোর্নমাউথের মতো দলে কঠিন সময় কাটিয়েছেন তিনি। তবে সেই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে শিখিয়েছে কীভাবে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়। এখন তিনি অ্যাস্টন ভিলার নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। শনিবার ভিলা পার্কে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারে।  

গোল করলে তার উদযাপন কী হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। মরগান রজার্স তারকা হতে পেরেছেন কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার মেলবন্ধনে। অ্যাস্টন ভিলায় তার সাফল্যের গল্প তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত