চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে সরানোর পর ওই তিন পদ পূরণে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব পদ পূরণে নিজেদের দেওয়া তালিকা থেকে নিয়োগের বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইসি ক্যাম্পাসে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য রয়েছে। ভিসি ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একটা সময় পর্যন্ত চলতে পারে কারণ সেটা সরাসরি সরকার পরিচালনা করে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে চলে না। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটা ক্যাম্পাস রয়েছে। সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন ভাতাসহ নানাবিধ খরচের বিষয় রয়েছে যাতে ভিসি এবং ট্রেজারারের স্বাক্ষরের প্রয়োজন। কিন্তু এখনো নিয়োগ না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ,শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ সকলকে। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় যদি বন্ধ হয়ে যায় অবশ্যই এই দায়ভার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। যদি আগের ট্রাস্টি বোর্ডের কারও কথা ধরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় তবে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিবে না। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য পলাতক রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত বড়ুয়া বলেন, আমাদের একটা প্রতিনিধি টিম ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সাথে দেখা করে। তাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় তাদের প্যানেল থেকে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও জুলাই স্পিরিট ধারণ করে এমন কাউকে আমাদের ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ১২ দিনেও এ সংক্রান্ত কোনো আপডেট পাইনি আমরা। যোগাযোগ করেও তাদের থেকে কোনও তথ্য আমরা পাচ্ছি না। এরই মধ্যে আমরা খবর পাই পলাতক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হাসিনা মহিউদ্দিন ৮ ডিসেম্বর উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিন জনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেন। এ ধরনের কোনও কিছু হলে আমরা শিক্ষার্থীরা মেনে নেব না। আর যেহেতু উনারা (মন্ত্রণালয়) উনাদের প্যানেল থেকে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগ দিতে পারে নাই; এ কারণে আমরা ধরে নেব তারা হয় ব্যর্থ না হয় দিতে চাইছে না, নতুবা আরও বিলম্বিত করবে। তাই আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের একটা লিস্ট আমরা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সেখান থেকে তারা নির্বাচন করে নিয়োগ দিবেন।
তিনি আরও বলেন, আজ বা কাল আমাদের প্রতিনিধি দল ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারারের লিস্ট নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমাদেরকে এ বিষয়ের একটা অগ্রগতি জানাতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৬ থেকে ৭ হাজার পরিবার জড়িত। এখানে তাদের বেতন ভাতার একটা বিষয় রয়েছে। আমরা কোনোভাবে আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারী বা শিক্ষকদের পেটে আঘাত করতে পারি না। আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবহেলিত।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
এর আগে, ৬ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমাবজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, উপ-উপাচার্য কাজী শামীম সুলতানা এবং কোষাধ্যক্ষ তৌফিক সাঈদ।
মাঝ সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছিল ১০২ রোহিঙ্গা
পর্নোগ্রাফির বিকল্প আনতে চান পুতিন