দেশে প্রথবারের মতো নারীদের শীতকালীন অভিযান ‘উইমেন’স উইন্টার এক্সপিডিশন’-এর আয়োজন করেছে পর্বতারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’। ‘সুলতানাজ ড্রিম আনবাউন্ড’ সেøাগানকে সামনে রেখে ২০ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উইমেন’স উইন্টার এক্সপিডিশন ২০২৪’-এর মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী নারী নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে দেশের পাঁচজন নারী অভিযাত্রী অংশগ্রহণ করছেন এই অভিযানে।
পর্বতারোহণে উৎসাহ দিতে ২০১৩ সাল থেকে ‘অভিযাত্রী’ বিভিন্ন অভিযানের আয়োজন করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে আয়োজিত হচ্ছে ‘উইমেন’স উইন্টার এক্সপিডিশন’। এই আয়োজনের লক্ষ্য বাংলাদেশের নারীদের দৃঢ়তা, কল্পনাশক্তি ও সাহসিকতাকে উদযাপন করা।
গত মে মাসে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রিজিওনাল রেজিস্টার ফর এশিয়া প্যাসিফিক তালিকায় স্থান পেয়েছে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা নারীর মুক্তিপ্রত্যাশী কাহিনি ‘সুলতানাজ ড্রিম’। এই বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘সুলতানাজ ড্রিম আনবাউন্ড’ বা ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত’ সেøাগানে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অভিযাত্রী। এই আয়োজনটিকে এনডোর্স করেছে ইউনেস্কো, ঢাকা।
দলনেতা নিশাত মজুমদার ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন পর্বতারোহী ইয়াসমিন লিসা ও তহুরা সুলতানা রেখা এবং ট্রেকার এপি তালুকদার ও অর্পিতা দেবনাথ। এই অভিযানে দুজন নতুন প্রশিক্ষণার্থী ট্রেকার এপি তালুকদার ও অর্পিতা দেবনাথ বেইজক্যাম্প পর্যন্ত ট্রেক করবেন। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড মাস্টারকার্ড। এই উদ্যোগের আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
নেপালের লাংটাং হিমালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শীতকালীন অভিযানের লক্ষ্য যে তিনটি শিখরে আরোহণ করা তা হলো, নয়া কাঙ্গা পিক (৫,৮৪৪ মিটার), ব্যাডেন পাওয়েল পিক (৫,৮৫৭ মিটার) এবং ইয়ালা পিক (৫,৫০০ মিটার)।
গতকাল ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ অভিযাত্রী দল ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
