অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য আনোয়ারা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১০ পিএম

শীতপ্রধান দেশ থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এসেছে রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। এসব পাখি দেখতে যেমন সুন্দর,তেমনই আকর্ষণীয় তাদের খুনসুটি। পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্যে। শুধু শীত এলেই দেখা মেলে এদের। 

উপজেলার দীর্ঘ ১০ কিলোমিটারের সাগর উপকূল ছাড়াও কোরিয়ান ইপিজেডের বিভিন্ন লেকে দেখা মিলছে এসব পাখির। শুধু কি তাই-উপজেলা পরিষদের পুকুর, সুরুত বিবির দিঘী, মনু মিয়ার দিঘী, কালা বিবির দিঘী,খাসখামা দিঘী,গুজরা দিঘী, পদ্ম পুকুরসহ উপজেলার প্রাচীনতম ও বৃহত্তম দিঘী- জলাশয়গুলোয় এবং দেয়াঙ পাহাড়ের গাছ-গাছালিতে যেন পাখির মেলা বসেছে। প্রতি বছর শীত এলেই বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসে এসব স্থানে। এখানে এসে প্রকৃতিকে সাজায় নতুন সাজে। অতিথি পাখির আগমন ঘিরে প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্দর্য যোগ হয়েছে।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে সাগর উপকূল, পারকি সৈকত, কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন দিঘী-জলাশয়ে সাদা বক, কবুতর,পানকৌড়ি, সাগর কৈতর, পাতিহাঁস, বালিয়া, গাংচিল, ঘুঘু, সারস, রাতচোরা, হরিয়ালসহ নানা প্রজাতির হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমনে পাখি প্রেমিক ও পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে অতিথি পাখির দল। সন্ধ্যা নামলেই দেয়াঙ পাহাড় ও দিঘি-জলাশয়ের পাড়ে গাছ-গাছালিতে আশ্রয় নেয় এসব পাখি। উপযুক্ত আবহাওয়া, পরিমিত খাবারের জোগান থাকায় পাখিগুলো এসব স্থানে আশ্রয় নেয় প্রতি বছর শীতকালে। 

প্রাণী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বাংলাদেশে ৭৪৪ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে ৩০১টি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে বলে এদের আবাসিক পাখি বলা হয়। খণ্ডকালীন সময়ে নিয়মিতভাবে আসে ১৭৬ প্রজাতির পাখি। যা বাংলাদেশের অতিথি পাখি হিসেবে গণ্য। এ দেশে অতিথি পাখিদের আগমন ঘটে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-এই দুই মাসে বেশি পাখি আসে এ দেশে। এসব অতিথি পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকে পুরো প্রকৃতি। মার্চ ও এপ্রিলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে চলে যায়।

খাসখামা গ্রামের ব্যবসায়ী উৎপল দাশ জানান, প্রতি বছর শীত এলেই খাসখামা দিঘীতে নানা রকম অতিথি পাখির ঢল নামে। ছোটকাল থেকেই এ দৃশ্য দেখে আসছি। সকাল-সন্ধ্যা অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকে এই এলাকা। শীতের শুরুতে পাখিগুলো আসে আবার গরম পড়তেই পাখিগুলো চলে যায়।

শিকারিদের ফাঁদে পড়ে প্রতি বছর অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে দাবি করে পাখি প্রেমিক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এভাবে প্রতি বছর অতিথি পাখি নিধন হতে থাকলে প্রকৃতি হারাবে তার নিজস্ব রূপ, বিলুপ্তি ঘটবে বহু পাখি প্রজাতির। তাই সবার উচিত অতিথি পাখিদের নিরাপত্তাদানে মানবিক হওয়া। সর্বোপরি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

 

পাখিদের আবাসস্থলের পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কোরিয়ান ইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো.মুশফিকুর রহমান। এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে এ উপজেলায় অতিথি পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। এসব পাখি শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপরও অনেক সময় পাখি শিকারের বিষয়ে অভিযোগ আসে। তাই কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য মাঠ পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত