রহমতগঞ্জের কাছে হেরে ফেডারেশন কাপ অভিযান শুরু করা মোহামেডান দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছে বড় জয়। বি গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ৬-০ ব্যবধানে হারিয়েছে দুর্বল চট্টগ্রাম আবাহনীকে। মোহামেডানের হয়ে ছয় গোল করেছেন ছয় ফুটবলার। মঙ্গলবার এই গ্রুপের অপর ম্যাচে রহমতগঞ্জও পেয়েছে বড় জয়। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনের হ্যাটট্রিকে তারা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিয়েছে।
চলতি প্রিমিয়ার লিগে এখনো অপ্রতিরোধ্য মোহামেডান। চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে তারা আছে লিগ টেবিলের শীর্ষে। দুর্দান্ত চলার পথে তারা হারিয়েছে টানা পাঁচবারের শিরোপাজয়ী বসুন্ধরা কিংস ও সর্বোচ্চ ছয় লিগ শিরোপা জেতা আবাহনীকে। তবে সেই ছন্দটা ফেডারেশন কাপের শুরুর ম্যাচে ধরে রাখতে পারেনি সাদা-কালোরা। রহমতগঞ্জের কাছে হারের ধাক্কাটা অবশ্য মঙ্গলবার ভালোভাবেই সামলেছে আলফাজ আহমেদের শীষ্যরা। ধুঁকতে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীকে পেয়ে জ্বলে উঠেছিলেন মোহামেডানের আরিফ হোসেন, রাজু আহমেদ জিসানরা। দু'জনই গোল করেছেন আবার করিয়েছেনও। তাতেই প্রথম জয় নিশ্চিত হয়েছে তাদের।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ইমানুয়েল সানডে মোহামেডানকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালির ফরোয়ার্ড সুলেমানে দিয়াবাতে। দ্বিতীয়ার্ধে আরিফ, জিসান, সৌরভ দেওয়ান ও জুয়েল মিয়া যোগ দেন গোলের সাদা-কালো উৎসবে।
ম্যাচের দশম মিনিটের প্রথম গোছালো আক্রমণ থেকে আরিফের পাস প্রথম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জটলার ভেতর থেকে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন সানডে। চার মিনিটে পর দারুণ আক্রমণকে সফল সমাপ্তি দেন মোহামেডান অধিনায়ক। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট নেননি এই তরুণ। বরং ডান দিকে বাড়িয়ে দেন দিয়াবাতেকে, ফাঁকা পোস্টে আলতো টোকায় গোল করেন তিনি। ৪০ মিনিটে ৩-০ করতে পারেননি দিয়াবাতে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জিসান ক্রস ফেলেছিলেন বক্সে। চট্টগ্রাম আবাহনী কিপার সেটি আয়ত্তে নিতে পারেন। তবে বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে পারেননি মোহামেডান অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান কমাতে পারত চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে তৌহিদুল আলম সবুজের টোকা গোললাইন থেকে ফেরান মোহামেডান ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসান রাফি। ৫২ মিনিটে আরিফ গোল করে ব্যবধান ঠিকই বাড়ান। ৬৮ মিনিটে আরিফকে গোল করানো জিসান করে মোহামেডানের চতুর্থ গোল। ৭৭ মিনিটে আরিফের ক্রস ধরে লক্ষ্যভেদ করেন সৌরভ দেওয়ান। এই পরপরই মোহামেডানের হয়ে শেষটি করেন জুয়েল।
ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে অপর ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে কামাল বাবুর দল রহমতগঞ্জ। জাতীয় দল থেকে ছিটকে গেলেও যে একেবারে শেষ হয়ে যাননি তার প্রমাণ নাবিব নেওয়াজ জীবন এই মৌসুমে রেখে চলেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। লিগে চার ম্যাচে করেছেন চার গোল। এবার ফকিরেরপুলের বিপক্ষে করলেন হ্যাটট্রিক। তাতে রহমতগঞ্জ ছয় পয়েন্ট নিয়ে এখন রয়েছে বি গ্রুপের শীর্ষে। প্রথমার্ধে মেহজাব হোসেন অপি ও জীবন একটি করে গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে স্যামুয়েল বোয়াটেং ৩-০ করার পর জোড়া গোলে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন জীবন। রহমতগঞ্জের হয়ে শেষ গোলটির মালিক মোহাম্মদ তোহা।
একই প্রশ্ন বারবার শুনে চটে গেলেন রোহিত