জীবিত ভাইকে মৃত দেখিয়ে হাসিনাসহ মামলার আসামি ৪১

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৩ এএম

সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে জীবিত ভাইকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মৃত দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তি। যাত্রাবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোরশেদ আলমের তদন্তে বের হয়ে এসেছে, দুলাল ওরফে সেলিম নামে একজনকে আন্দোলনে ‘নিহত’ দেখিয়ে মামলা করেন তার ভাই মোস্তফা। সম্প্রতি সেই দুলাল ওরফে সেলিমকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাজলায় গোলাগুলিতে ঠিকানা পরিবহনের বাসের হেলপার দুলাল নিহত হয়েছেন এ অভিযোগে ২৭ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, দুলাল নিহত হননি। ২৬ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান জবানবন্দি রেকর্ড করেননি। ওই ব্যক্তি দুলাল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আরও ডকুমেন্ট হাজির করার নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলার তদন্তে গিয়ে দুলালকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা আসামি।

দুলাল ওরফে সেলিম স্ত্রীকে নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বেলতলী বাজার এলাকায় বাস করেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মাসখানেক আগে ফুলবাড়িয়া থানা থেকে পুলিশ আসে। আমার নাম জিজ্ঞাসা করে। আমার নাম সেলিম, পরে মামলার বিষয়ে জানালে আমি বলি, কিছু তো জানি না। আমাকে বলে, আপনি তো ৩ আগস্ট গুলিতে মারা গেছেন। আমার ভাইয়েরা আমাকে মেরে ফেলেছে। আমি তো কবরস্থানে আছি। সেখান থেকেই কথা বলছি। পরে পুলিশ আমার কথাবার্তা রেকর্ড করে নিয়ে যায়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশ আমাকে কোর্টে নিয়ে যায়।’

দুলাল আরও বলেন, ‘আমরা চার ভাই। আমি সবার ছোট। আমার দুই মেয়ে। ছেলে নেই। তিন ভাই আমার সম্পত্তি তাদের ছেলেদের নামে লিখে দিতে বলে। তা না দেওয়ায় আমার ওপর অত্যাচার শুরু করে। মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে বাপের ভিটা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছি। তিন ভাই মিলে আমাকে মেরে ফেলার মাস্টারপ্ল্যান করেছে। তারা এত বড় ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা হলো সুবিধাবাদী। যখন যে সরকার আসে, তার কাছ থেকে সুবিধা নেয়। ২০২২ সালে জমি নিয়ে ঝামেলা হয়। তাদের নামে মামলা করেছি। মামলা এখনো চলছে। মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। না তোলায় অত্যাচার শুরু করে। এর মাঝে ছাত্র আন্দোলন আসে। আমাকে মৃত দেখিয়ে মামলা করল।’

মামলার অভিযোগ মোস্তফা বলেছিলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৩ আগস্ট কাজলা এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। সেই গুলি দুলালের মাথায় লাগলে সে মারা যায়।’

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, রমেশ চন্দ্র সেন, আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, মশিউর রহমান মোল্লা সজল, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর কুলসুম বেগম তার জীবিত স্বামী আল-আমিনকে মৃত দেখিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল চলাকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার স্বামী মো. আল-আমিন মিয়া নিহত হয়েছেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়। ৮ নভেম্বর অভিযোগটি ঢাকার আশুলিয়া থানায় এজাহারভুক্ত হয়। পরে আল-আমিনের জীবিত থাকার তথ্য গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। গত ২১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় কুলসুম বেগমকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত