ভুলতার পাড়াগাঁও এলাকা থেকে জমির নামজারি করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসে আসেন মনির গাজী। কিন্তু অফিসে এসে জানতে পারেন অনলাইনের সার্ভার বন্ধ রয়েছে। এই মুহূর্তে জমির নামজারির আবেদন করা যাবে না। এ কারণে হতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। শুধু রূপগঞ্জ উপজেলা নয়, সারা দেশেই এক মাস ধরে ভূমি অনলাইন সার্ভার বন্ধ থাকায় মনির গাজীর মতো অসংখ্য মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটের সার্ভার আপডেট ও সংস্কার করতে চার দিনের জন্য অনলাইন সার্ভার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ভূমি মন্ত্রণালয় চার দিনের জন্য সার্ভার বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি দিলেও পেরিয়ে গেছে এক মাস। নজিরবিহীন জনভোগান্তির পাশাপাশি শুধু এ কারণেই সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। জমির সর্বশেষ খতিয়ান সৃষ্টি (মিউটেশন), ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করতে না পেরে রূপগঞ্জসহ সারা দেশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় রূপগঞ্জ উপজেলায় এক হাজারেরও বেশি শিল্প কারখানা রয়েছে। এ কারণে এখানে জমির দামও বেশ চওড়া। সব মিলিয়ে এখানে জমি বেচাকেনাও তুলনামূলক বেশি। সার্ভার জটিলতায় নামজারি ও খাজনা দিতে না পেরে জমি রেজিস্ট্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিও বেশি। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নের ৯টি ভূমি অফিসে প্রতিদিন বহু লোক ভূমিসেবা নিতে আসেন। জমির কাগজপত্র ঠিক করাসহ ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, ই-নামজারির কাজ করতে না পেরে হতাশ হয়ে চলে যান তারা।
দলিল লেখক জয়নাল আবেদীন বলেন, নামজারি ও চেক দাখিলা কাটতে না পারায় জমি রেজিস্ট্রির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কেউ জরুরি প্রয়োজনে দলিল করতে আসছেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (পূর্বাচল সার্কেল) ওবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, ‘অনলাইনের সার্ভার কিছুটা চালু হয়েছে। তবে ধীর গতির কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। সার্ভার জটিলতায় অনেক নামজারির ফাইলও আটকে আছে। তবে শিগগিরই সার্ভার পুরোপুরি সচল হবে।’
