পটিয়ার হাইদগাঁও ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় আহত শামসুল আলম ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার (৩০ ভিসেম্বর) সকাল ৬ টায় তিনি মারা যান।
নিহত শামসুল আলম (৪৫) পটিয়ার পূর্ব হাইদগাঁও ৬ নং ওয়ার্ডের কালা মিয়ার ছেলে। তিনি পটিয়া পৌরসভার সুচক্রদন্ডী ২ নং ওয়ার্ডে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর পটিয়ার পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের ভাঙ্গাপুল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন শামসুল আলম । এরপর থেকেই তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
দরিদ্র কৃষক সামশুলের দুই সন্তান কানিজ ফাতিমা (১১) ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৭) রয়েছে।
সামশুল আলমের স্ত্রী সুমি আকতার বলেন, আমার স্বামীর কোনো অপরাধ ছিল না। তিনি গত ২১ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় হাইদগাঁও গ্রামের ঘর থেকে বের হয়ে পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হাইদগাঁও ভাঙাপুল এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় সন্ত্রাসী ইউনুছ প্রকাশ বাচার নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন তার ওপর লোহার বড়, হাতল ও কিরিচ দিয়ে হামলা চালায়। এই সময় লোহার রড কিরিচের আঘাতে তার মাথা তেতলে যায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মকভাবে জখম হয়। বেদড়ক পিটানোর পর মৃত্যু হয়েছে ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে যায় তাকে। হামলার সময় কয়েক শত লোকজন বেরিয়ে আসলেও ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
সুমি আকতার আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে এলাকাবাসী আমার স্বামীকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
সুমি আকতারের অভিযোগ, তাদের একটি জায়গা ভূমিদস্যু মোহাম্মদ ইউনুচ নানাভাবে গ্রাস করতে চেয়েছিল। আমার স্বামী বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে এর আগেও গত ১৪ নভেম্বর তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। যার প্রেক্ষিতে তার স্বামী পটিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ দিকে ২১ ডিসেম্বর শামশুল আলমের ওপর হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী সুমি আকতার বাদী হয়ে ২২ ডিসেম্বর একটি মামলা করেছেন। মামলায় ইউনুছ প্রকাশ বাচা (৪০), মো. নাছির (৪২), মো. রফিক (৪৪), মো.মাইনু (২৫), মো.রাজ (২০), রিদ্দু (২২), মো. মারুফ (২৫), আবু মোরশেদ (৩৫), মো. মুছা (৪৫), আবু সিদ্দিক প্রকাশ মিন্টু (৪০), আবু তালেব (৪২), মো. কামাল (৪০), মো. ওসমান (৪০), মোস্তাক (৪২), ফরিদ (৫০) ও মো. জাফরকে (৪৪) আসামি করা হয়।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জায়েদ মো নাজমুন নুর জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করি অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১১৪, মৃত্যু ১
যেসব দলের ভোট কম তারা আনুপাতিক নির্বাচনের কথা বলছে: রিজভী
মামলা নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়েছে: আসিফ নজরুল
৪৩তম বিসিএসের নতুন প্রজ্ঞাপন, বাদ পড়লেন আরও ১৬৮ প্রার্থী
রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিস্টদের মতো কাজ করছে: ইসলামী আন্দোলন