পাখির আঘাত নাকি অন্য কিছু

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩১ এএম

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর জরুরি নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে সিউল। গত রবিবার এ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজের ১৮১ আরোহীর মধ্যে ১৭৯ জনই নিহত হয়েছেন। উড়োজাহাজটি অবতরণের আগে আগে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাখির আঘাতের সতর্কতা জারি করা হয়। যা উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ঝুঁকি নির্দেশ করে। তবে এখন তদন্তে দেখা হবে, পাখির আঘাতই এ দুর্ঘটনা হয়েছে কি না। নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল?

মাঝে মাঝে উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে পাখি ঢুকে যায়। তখন ইঞ্জিন শক্তি হারিয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে। তবে উড়োজাহাজে পাখির আঘাত বেশ সাধারণ ঘটনা। সাধারণত পাখির আঘাতে উড়োজাহাজে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হয় না। হতাহতের বিষয়টিও অস্বাভাবিক। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে পাইলটরা সাধারণত এই সমস্যার সমাধান করতে এবং জরুরি অবতরণের জন্য হাতে যথেষ্ট সময় পান।

দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্ঘটনাটি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের কি না সেটি এখনো নিশ্চিত করেননি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, ফ্লাইটে থাকা একজন যাত্রী তার পরিবারকে টেক্সট বার্তায় জানিয়েছিল একটি পাখি ‘ডানায় আটকে আছে’, যে কারণে বিমানটি অবতরণ করতে পারছে না। দুর্ঘটনাস্থল মুয়ানের অগ্নিনির্বাপণ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পাখির আঘাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস কিংসউড জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে স্পষ্টভাবে দুর্ঘটনার কারণ বোঝা যায় না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অবতরণের সময় উড়োজাহাজটির ল্যান্ডিং গিয়ার (অবতরণে ব্যবহৃত চাকা) বের হয়নি। আর জাহাজের ডানার সঙ্গে থাকা ফ্ল্যাপটিও ঠিকভাবে ব্যবহার করছিল না।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘যখন আপনার দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যাবে, তখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। একটি সচল ইঞ্জিন নিয়ে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বেশ নিরাপদে উড়তে পারে। যদি অল্প উচ্চতায় পাখির আঘাতে দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যায়, তখন পাইলটদের বেশ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত