‘তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়’ কিংবা ‘এইখানে তোর দাদীর কবর- ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দু’নয়নের জলে’ এমন অসংখ্য কবিতা, গান, গল্পের রচয়িতা পল্লীকবি জসীম উদ্দীন। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বব্যাপী যিনি তুলে ধরেছিলেন আজ ১ জানুয়ারি সেই পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। পল্লীকবি জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নাম। তার লেখনীর মধ্যে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার জীবন-জীবিকা, শ্রমজীবী, পেশাজীবীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষের কথা। যার লেখনীতে বাংলা সাহিত্যের ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে সেই কবির বাড়িটি এখনো পড়ে রয়েছে অযন্ত আর অবহেলায়। বাড়িটিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি কখনো। দিনের পর দিন অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে দর্শনার্থীদের জন্য নেই কোনো টয়লেট বা বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। নেই কোনো বিশ্রামাগার। কবির লেখা সব বই নেই তার বাড়িতে। বাড়ির ওপাশে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রচারের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীরা জাদুঘরের অভ্যন্তরে বসে অসামাজিক কার্যকলাপ করে থাকে, যা দেখার কেউ নেই। বিগত বছরগুলোতে কবির জন্মবার্ষিকী ঘিরে মাসব্যাপী ‘জসীম পল্লী মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়ে এলেও কয়েক বছর বিরতির পর গত বছর পুনরায় মেলা হয়। কিন্তু এ বছর মেলা হবে কি না তা জানেন না কেউই।
কুমিল্লা থেকে কবির বাড়ি দেখতে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এত বড় মাপের একজন কবি তিনি অথচ তার বাড়িতে দেখার মতো তেমন কিছুই নেই। সবকিছু এলোমেলো। কবি পরিবার ও সরকারের উচিত নতুন প্রজন্মকে দেখানোর জন্য সংগ্রহশালাটি সমৃদ্ধ করা।
স্থানীয় সাংবাদিক পান্না বালা বলেন, ‘জন্ম আর মৃত্যুবার্ষিকীতেই কেবল কবিকে স্মরণ করা হয় কিন্তু এটা ঠিক নয়। কবির প্রতি আমাদের সবার দরদ থাকতে হবে। বাড়িটি ঘিরে ভালো কিছু হোক সেটাই প্রত্যাশা করি।’
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘পল্লীকবিকে নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই করার ছিল কিন্তু আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। এটা ফরিদপুরবাসী হিসেবে সবার ব্যর্থতা।’
কবি পরিবারের স্বজন হারুন অর রশিদ বলেন, ‘কবির বাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের তরফ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার মধ্য দিয়ে পল্লীকবির বাড়িটিকে দর্শনীয় স্থান বানানো গেলে ভক্তরা এখানে এসে পরিতৃপ্ত হবেন।’
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুরের সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় মারা যান তিনি।
