এমনটা আগে কখনো হয়নি। ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ স্তরে আবির্ভাবের পর টানা তিন ম্যাচ জয়শূন্য থাকেনি বসুন্ধরা কিংস। এবার তাই হয়েছে। লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়শূন্য থাকার পর মঙ্গলবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে গতবারের ট্রেবলজয়ীরা। ফেডারেশন কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশকে তারা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। রোমাঞ্চকর এই জয়ে প্রথম ধাপ পেরিয়ে কোয়ালিফায়ার্সে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে কিংস। অপর ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব।
তিন ম্যাচ থেকে ফর্টিসের সংগ্রহ সাত পয়েন্ট। পুলিশের সঙ্গে ড্র করার তারা বসুন্ধরাকে দিয়েছিল হারের স্বাদ। সেই হারটাই মূলত পিছিয়ে দিয়েছিল কিংসকে। সেই হারের হতাশা ভুলতে জয়টা ভীষণ প্রয়োজন ছিল ভ্যালিরিউ তিতার দলকে। সেটা পেতে গিয়ে ভালোই ঘাম ঝরাতে হয়েছে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম ১১ মিনিটে হয় তিন গোল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দশ মিনিটে হয় বাকি দুই গোল। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শুরুটা ষষ্ঠ মিনিটে করেছিলেন তপু বর্মণ। কিংসের এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মিগেল ফিগেইরার কর্নারে বাঁ পায়ের ভলিতে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান। তবে সেই লিড স্থায়িত্ব পায়নি খুব একটাÑ দুই মিনিট পরেই গোল শোধ দেয় পুলিশ। বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে ইশা ফয়সাল আড়াআড়ি পাস দেন বক্সে। নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ইজে খেয়ালই করেননি তরুণ আল-আমিন আক্রমণে উঠেছেন। সুযোগ বুঝে ছুটে এসে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল জালে জড়ান ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড। বসুন্ধরা অবশ্য লিড পুনরুদ্ধার করে ম্যাচের ১১ মিনিটে। মিগেলের কাছ থেকে বক্সে পাস পেয়ে দুর্দান্ত টার্নে দুই ডিফেন্ডারকে সুযোগ না দিয়ে গোলমুখে কাটব্যাক করেন মজিবর রহমান জনি। পুলিশের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল চলে আসে মিগেলের কাছে। বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে বল জালে জমা করেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার।
বিরতির পর কিংস ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে নেয়। ৫২ মিনিটে ৩-১ করে তারা। শর্ট কর্নার থেকে বল ফেরত নিয়ে বাঁ দিকের বাইলাইন ধরে আক্রমণে উঠে আলতো স্কয়ার পাস দেন গোলমুখে। ফাঁকায় থাকা জোনাথন ফার্নান্দেজ পা ছুঁইয়ে কেবল গোলের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। তবে দুই মিনিট পর আল-আমিন ফের গোল করে ব্যবধান কমান। সৈয়দ কাজেম শাহর ডিফেন্সচেড়া থ্রু পাস আয়ত্তে নিয়ে বক্সে গিয়ে আগুয়ান কিপার শ্রাবণকে কাটিয়ে একটু কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করেন আল আমীন। এই মৌসুমে পেলেন সপ্তম গোলের দেখা। যদিও বাকি সময় আল-আমিনের দল আর গোল পায়নি। তাতে কিংস পায় ভীষণ স্বস্তির জয়। তারা সর্বশেষ জিতেছিল রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। লিগে পুরনো ঢাকার দলটিকে ৪-১ গোলে হারানোর পর ফেডারেশন কাপে ফর্টিসের কাছে হারের ধাক্কা সইতে হয়। এর তিন দিন পর তারা লিগে হেরে বসে স্থানীয়দের নিয়ে খেলা আবাহনীর কাছে। এরপর লিগের শেষ ম্যাচে তারা ১-১ ড্র করে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে।
কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দিনের অপর ম্যাচে ফর্টিসকে বড় জয় পেতে বড় ভূমিকা ছিল জয় কুমারের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তিনি প্রথম গোল করেন। এরপর ৭৫ মিনিটে পান জোড়া গোলের দেখা। আর শেষ মুহূর্তে পিয়াস আহমেদ নোভা গোল করে ফর্টিজকে রাখেন শীর্ষে।
