পোষ্য কোটা

রোববার থেকে রাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:১০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিল ও বহাল রাখা নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কোটা বাতিল না হলে আগামী রোববার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

অন্যদিকে প্রশাসনের ১ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিসহ ৩দিন ব্যাপি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।

এদিকে সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে অবরুদ্ধ হওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ফটক খুলে দেওয়ার কথা বললে শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানায়। এতে দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আটকে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শাবল দিয়ে ফটকের তালা ভেঙে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য করে পানি ছুড়ে মারেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত তাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় আন্দোলনকারীরা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং প্রধান ফটকের তালা খুলে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধকে তোয়াক্কা না করে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় তাদের আন্দোলন চালিয়ে যান। তবে রাত সোয়া ৮ টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। 

স্লোগান দেওয়ার একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান অসুস্থতাবোধ করলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন পোষ্য কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার। অপরদিকে আজ বিকেলে তিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোক্তার হোসেন।

‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানায়। আমরা গতকাল রাতেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েই প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়েছি। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা রাখার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা প্রথা একটা হাস্যকর বিষয়। অবিলম্বে পোষ্য কোটা বাতিল করে মেধাবীদের মুক্তি দিতে হবে। আজকের মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিল করা না হলে আগামী রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন করা হবে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোও ক্যাম্পাসের বাহিরে যেতে দেওয়া হবে না।’

এদিকে সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একদিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতিসহ ৩দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ফেরত চাই। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা ৩ দিনের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ৬ জানুয়ারি মানববন্ধন, ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে ২ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি এবং ৮ জানুয়ারি আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করবো। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও কঠিন। গতকালের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনের আর কোনো নৈতিক ও যৌক্তিক কিছু থাকে না। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাপ আলোচনার বিকল্প নেই। বিষয়টি সমাধানে আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলবো। কারণ এ ধরনের কর্মসূচি পালিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিক্ষার্থীরা। আমরা চাই না আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিল। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসন সেই কোটা ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে ২০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। তিনদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও প্রায় দেড় মাস পর গতকাল বিকেলে নতুন সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শিক্ষক ও কর্মকর্তার সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেবল সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত