জমি নিয়ে বিরোধে সাঁওতাল নারীকে মারধর বাড়িতে আগুন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:১০ এএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ফিলোমিনা হাসদা (৫৫) নামের এক সাঁওতাল নারীকে মারধর ও তার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ওই সাঁওতাল নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহত ফিলোমিনা হাসদাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফিলোমিনা হাসদার ছেলে ব্রিটিশ সরেন অভিযোগ করে বলেন, সাঁওতালদের পৈতৃক জমি যা বাঙালিরা দখল করে নিয়েছে। ওই জমিতে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মাটি ভরাট করছিলেন। জায়গাটি আগে পতিত অবস্থায় ছিল। হঠাৎ চেয়ারম্যান সেই জমিতে মাটি কেটে ভরাট করছে দেখে আমাদের গ্রামের সাঁওতাল কয়েকজন যুবক বাধা দিতে যায়। তখন চেয়ারম্যানের লোকজন তার সামনে আমার খালাতো ভাই নেকোলাস মুর্মুকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এর কিছু দূরে আমরা জমিতে কাজ করছিলাম। মারধরের কথা শুনে আমি প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান আমাকে লাঠি নিয়ে মারতে আসে। এটা দেখে আমার মা চেয়ারম্যানের লাঠি ধরতে গেলে চেয়ারম্যান আমার মাকে কানে উপর্যুপরি থাপ্পড় দেয়। এতে মা মাটিতে পরে যান এবং তার কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।

পরে আমার ভাইয়েরা মাকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। ১২টার সময় আমি আবার আলুর জমিতে গেলে চেয়ারম্যানের ২০-২৫ জন লোক আমাকে ধাওয়া করে বাড়িতে নিয়ে এসে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ব্রিটিশ সরেন আরও বলেন, বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের ডাক্তার মাকে বগুড়ায় রেফার্ড করলে আমরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। মা এখনো ওখানেই চিকিৎসাধীন। রাত ১১টার সময় শুনি যে আমাদের বাড়িতে চেয়ারম্যানের লোকজন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভালেও একটি ঘর পুড়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে রাজাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় একজন বাঙালি মালিকের কাছ থেকে ১০-১২ বছর আগে ১৬ শতক জমি কিনেছিলাম। ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে ব্রিটিশ সরেনসহ কয়েকজন সাঁওতাল যুবক মদ খেয়ে এসে আমাদের বাধা দেয়। আমার লোকজন তাদের তাড়িয়ে দেয়। আমার জমির দলিল আছে। জমিও আমার নাম রেকর্ড হয়েছে। আমি ব্রিটিশের মাকে মারধর করিনি। তবে সাঁওতালদের দাবি এই জমি বাঙালিরা ভুয়া দলিলপত্র তৈরি করে দখলে নিয়েছে।

আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে কারা আগুন লাগিয়েছে আমি জানি না। এই সময় আমি থানায় ছিলাম ওসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা শোনার পর সেখানে একজন পুলিশ অফিসারকে পাঠানো হয়। একজন সাঁওতাল নারীকে কানে একটা থাপ্পড় দিয়েছে (চেয়ারম্যান)। আর রাতে বাড়িতে কে আগুন দিয়েছে সেটা তো কেউ দেখেনি। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চেয়ারম্যান হোক আর যাই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে ব্রিটিশ সরেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারী ও তার মাকে মারধর করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। রাজাবিরাট এলাকায় সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ এবং গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ, এএলআরডির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকে। এতে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবিরসহ স্থানীয় সাঁওতাল নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত