৫০ বিচারকের ভারতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাতিল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৭ এএম

ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিশিয়াল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় ৫০ কর্মকর্তাকে মনোনীত করেছিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণের এ অনুমতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে, ছয় দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের বিষয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর দেওয়া প্রজ্ঞাপন গতকাল বাতিল করে মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক ওই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে বলে নতুন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশিক্ষণ) ড. আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ভূপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং একটি স্টেট জুডিশিয়াল একাডেমিতে ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অনুমতি প্রদানপূর্বক বিগত ৩০ ডিসেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। প্রজ্ঞাপনের এ অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, মহানগর দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বরের ওই প্রজ্ঞাপনে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৫০ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় ভারত সরকার বহন করবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ নেই। 

২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর করেন। ওই সফরে বাংলাদেশের বিচারকদের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এরপর একই বছরের ২৯ জুলাই এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছিলেন, বিচারকদের ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে জুডিশিয়ারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে। ভূপালে ভারতের জাতীয় জুডিশিয়ারি একাডেমি আছে। সেখানে বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৬শ বিচারকের ট্রেনিংয়ের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানান তিনি। এরপর একই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন বিচারক প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যান। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে আরও অনেক বিচারক সেখানে প্রশিক্ষণ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত