বিসিএসে বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য সরকারকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস অব বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা বলেন, অক্টোবর-নভেম্বরে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ বিসিএসের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানো হয়। চিকিৎসকদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে অন্যদের তুলনায় সময় বেশি লাগে। সুতরাং তাদের বয়সসীমা ৩৪ করার দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
চিকিৎসকরা জানান, এ দাবিতে তারা ইতিমধ্যে চিকিৎসক সমাবেশ, জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে দেখা করাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনো এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তারা বলেন, যেসব চিকিৎসকের বয়স প্রায় শেষের দিকে, বয়স ৩৪ করা না হলে তারা বঞ্চনার শিকার হবেন।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ দাবি মেনে নেওয়া না হলে স্বাস্থ্য খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চিকিৎসকরা বলেন, অন্যথায় দাবি আদায়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউমবের মুখপাত্র ডা. মোবারক হোসাইন বলেন, গত বছর ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের প্রজ্ঞাপনে আবেদনকারীর বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর উল্লেখ করা হয়, যা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্যান্য বিসিএস আবেদনকারীর স্নাতক শেষ করতে যেখানে ন্যূনতম চার বছর প্রয়োজন হয়, সেখানে চিকিৎসকদের এমবিবিএস/বিডিএস স্নাতক ও ইন্টার্নশিপ শেষ করতে ন্যূনতম ৭৮ মাস বা সাড়ে ছয় বছর লাগে। তাই পূর্ববর্তী সব সাধারণ বিসিএস পরীক্ষায় যেখানে আবেদনকারীদের বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, সেখানে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩২ বছর ছিল। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে সবার ক্ষেত্রে বয়সসীমা দুই বৃদ্ধি করে ৩২ করা হলেও চিকিৎসকদের বয়স বৃদ্ধি হয়নি। ফলে তারা এ ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসকদের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় দুই বছর বৃদ্ধি পূর্বক ৩৪ বছর করে অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারের কাছে আবেদন জানান ডা. মোবারক হোসাইন।
