কক্সবাজারে সাবেক কাউন্সিলরকে গুলি করে হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

  • অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা,
  • হত্যাকারিরা পেশাদার ধারণা পুলিশের
  • র‌্যাব হেফাজতে চলছে দুই জনের জিজ্ঞাসাবাদ
  • সঙ্গী নারীর হাদিস নেই
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের গুলিতে খুলনার সাবেক কাউন্সিলার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গোলাম রব্বানী টিপু হত্যার ঘটনা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

পুলিশ বলছেন, বেশ কিছু কারণকে সামনে রেখে র‌্যাবের সহায়তা তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাটি দেখে পেশাদার খুনি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিহতের ভগ্নিপতি বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলাও দায়ের করেছেন। নিহতের সাথে থাকা দুইজনকে র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সঙ্গে থাকা নারীর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ওই নারীকে খোঁজা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে কক্সবাজার শহরে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন হোটেল সীগালের সামনে রাস্তার ফুটপাতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা গোলাম রব্বানীকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি জানান, নিহতের ভগ্নিপতি মো. ইউসুফ আলী সেফ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

প্রাপ্ত মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, নিহত গোলাম রব্বানী টিপু দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে মাছের ঘেরের ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসার বিষয়টি বোন নুরজাহান বেগম হ্যাপীকে অবহিত করেছিলেন। ৯ জানুয়ারি পুলিশের মাধ্যমে গুলি করে হত্যার বিষয়টি অবহিত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলে আরোহী হঠাৎ এসে এই ব্যক্তিকে গুলি করে৷ মাথার এক পাশে দিয়ে গুলি অন্য পাশে চলে যায়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার বিবরণে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে হচ্ছে। হত্যায় অংশ নেয়ারা পেশাদার খুনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের স্বজনরা বলেছেন রাজনৈতিক এবং নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রতিপক্ষ রয়েছে। এমনকি হত্যার হুমকিও ছিল। ফলে বিভিন্ন কিছু মাথা রেখে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। র‌্যাব পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সকালে কলাতলী এলাকার গোল্ডেন হিল হোটেল নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে সাবেক কাউন্সিলার গোলাম রব্বানী ও খুলনার সাবেক আরেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার টিপুর সাথে রুমি নামের এক নারীসহ হোটেলে উঠেন। পরে হোটেলে আসেন কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকার মেজবাহ হক ভূট্টো নামের আরেকজন। সন্ধ্যা পর ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে গোলাম রব্বানী হোটেল থেকে বের হন। পরে রাত ৯ টার দিকে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন হোটেল সীগালের সামনে ফুটপাতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের গুলি মারা যান। ঘটনার পর দুইজন র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি র‌্যাব ভালো বলতে পারবেন। তবে সাথে থাকা  নারী পলাতক রয়েছেন। তাকে খোঁজা হচ্ছে।

র‌্যাব ১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, দুইজনকে হেফাজতে নিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পরপরই র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে রাতে হোটেল গোল্ডেন হিলের কক্ষ থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার শেখ হাসান ইফতেখারকে এবং নিজবাড়ি থেকে ভূট্টোকে হেফাজতে নেওয়া হয়। হত্যার কারণ বের করতে চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ  ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার বিকালে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত