চট্টগ্রামের গ্রামেও এখন গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাড়িতে চলছে নির্মাণ কাজ। ট্রাক বোঝাই হয়ে আসছে ইট, বালি। তবে সে সব রাখা হবে কোথায়? কেন? সড়ক-মহাসড়ক আছে না! আর এমন একটি মহাসড়ক যার নাম চট্টগ্রাম-রাঙামাটি। এই মহাসড়কের উত্তর ফতেয়াবাদ খাগড়িয়া ছড়ারকুল এলাকায় সড়কের এক তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে ইট, বালির ব্যবসা করে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি।
নির্মাণ সামগ্রী রাখার ঠেলায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গেল সপ্তাহে ছড়ারকুল এলাকায় বালির স্তূপ এড়িয়ে চলতে গিয়ে পেছন থেকে ইজবাইককে ধাক্কা দেয় একটি অটোরিকশা। আর এতে গুরুতর আহত হন ইজিবাইক আরোহী মহসীন চৌধুরী নামের ষাটোর্ধ এক ব্যক্তি।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের উত্তর ফতেয়াবাদ খাগড়িয়া ছড়ারকুল ব্রিজ পার হয়ে কিছুদূর সামনে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে বালি। একই অবস্থা ধোপারদিঘির পাড় পার হয়ে হাটহাজারী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বিপরীতেও। শুধু এখানে নয়, চৌধুরী হাট এলাকায় মহাসড়কের পাশে নির্মাণাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রীও রাখা হয়েছে রাস্তার ওপর।
আবদুল জলিল নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘এই তো সে দিন সকালে ছড়ারকুল ব্রিজ পার হতেই রাস্তার ওপর বালির স্তূপের জন্য দুর্ঘটনা ঘটল। একটি লরিকে পাশ কাটাতে গিয়ে আমার মোটরবাইক সোজা ঢুকে পড়ে বালির স্তূপে। এ সময় রাস্তা ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন । অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলাম।’
অনেকেই অভিযোগ করেন স্থানীয় এরশাদ, মোরশেদ, সায়েমসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের ওপর ইট, বালি রেখে ব্যবসা করছেন। তবে এই ‘বদ-অভ্যাস’শুধু তাদের নয়, কিছু সাধারণ মানুষেরও আছে। গ্রামের অলিগলিতে রাস্তা প্রশস্ত না থাকায় অনেকেই ইট, বালি এনে রাখেন মহাসড়কের ওপর। পরে এসব ইমারতি সামগ্রী ট্রলি করে বাড়ি নিয়ে যান।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেক সময়ই দেখা যায় সড়ক থেকে বেশ খানিকটা দূরে কোনও গৃহস্থ বাড়িতে চলছে নির্মাণ কাজ। কিন্তু অপরিসর রাস্তায় ট্রাক ঢুকতে পারে না। তাই সড়ক বা মহাসড়কেই ইট, বালি নামিয়ে রাখা হয়। প্রয়োজন মতো ট্রলি বা ভটভটি করে নিয়ে যাওয়া হয় গন্তব্যে। আবার ব্যবসায়ীরাও তাদের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করেন মহাসড়ক।
মো. আমজাদ নামের এক বাস চালক বলেন, ‘ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের ফতেয়াবাদ ছড়ারকুল এলাকায় রাস্তার উপর ইট, বালি ফেলে রাখায় যেন মরণফাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চালানোই বিভীষিকা। যে কোনও মুহূর্তে পিছলে যেতে পারে চাকা।’
ছড়াকুলের বাসিন্দা মো. ইকবাল দাবি করেন, হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক দেখাভালের দায়িত্ব চট্টগ্রামের রাউজান হাইওয়ে থানা পুলিশের। কিন্তু সড়কটি তদারকিতে তাদেরও আছে অবহেলা ও গাফিলতি। অভিযোগ আছে, অনেক সময় হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়ক তদারকির চাইতে গাড়ি থেকে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত খাকেন।
তবে হাইওয়ে পুলিশের রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, যারা এভাবে মহাসড়কের অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুন হওয়ার আগে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেন সাবেক কাউন্সিলর
পদোন্নতি পেয়ে মহাব্যবস্থাপক হলেন ৩৩ কর্মকর্তা
কক্সবাজারে সাবেক কাউন্সিলরকে গুলি করে হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা