বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং প্রযোজনা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তীর জুলাই অভ্যুত্থানের শিল্পকর্ম নিয়ে ‘পোস্টারে জুলাই অভ্যুত্থান’ লাইভ ও এআর-ভিআর (অগমেন্টেড-ভারচুয়াল রিয়েলিটি) ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী দুটি কারণে বিশেষ। জুলাই অভ্যুত্থানে শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তীর গ্রাফিক্সের একটি অসামান্য ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিল্পী বহু আগে থেকেই বিভিন্নভাবে তার শিল্পের মাধ্যমে দেশের অনেক অন্যায়, অন্যায্যতা ও শোষণের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে এসেছেন। জনসাধারণের মধ্যে তার সেসব প্রতিবাদী শিল্পের একটি গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা ছিল। সেই জনপ্রিয়তা কয়েকশগুণ বেড়ে যায় জুলাই অভ্যুত্থানের কালে। জনমত গঠন ও আন্দোলনকারীদের সাহস এবং শক্তি জোগাতে তার সৃষ্ট পোস্টার অনন্য ভূমিকা পালন করে। সেই কাজগুলো একত্রে দর্শকরা গ্যালারির ভেতরে দেখতে পাবেন।
দ্বিতীয় যে কারণে প্রদর্শনীটি বিশেষ তা হলো, শিল্পকলা একাডেমি যে উপায়ে প্রদর্শনীতে ভিআর এবং এআর প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দর্শকের কাছে প্রদর্শনীটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের প্রদর্শনীশিল্পে প্রযুক্তিগত ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দেবাশিস চক্রবর্তীর প্রদর্শনীতে দুই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবহার উপস্থিত। দর্শক তাদের নিজ স্মার্টফোন দিয়ে প্রতিটি শিল্পকর্মের পাশে দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করলে সেই পোস্টারের সঙ্গে সম্পর্কিত সময়ের খবরাখবর, ভিডিওচিত্র ইত্যাদি নিজ ফোনেই দেখতে পারবেন। এটি দর্শকদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। অন্যদিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চশমা দ্বারাও দর্শক প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাকে ভিআর গ্লাসেস চোখে পরিধান করে নিতে হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চলের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি জানান ভবিষ্যৎ শিল্প প্রদর্শনীর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো তারা আরও বৃদ্ধি করবেন। দর্শকদের শিল্পপ্রদর্শনী উপভোগে এই উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে আরও আগ্রহী করে তুলবে।
দেবাশিস চক্রবর্তীর যে কাজগুলো এতদিন মানুষ নিজ কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে দেখে এসেছেন, তা শিল্পকলার বৃহৎ গ্যালারির ভেতর, বিশালাকারে দেখা একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। জুলাই অভ্যুত্থানের সে সময়কালের স্মৃতি দর্শকের মনে অবশ্যই জোরালোভাবে উঁকি দিয়ে যায় এবং তার সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে শিল্প উপভোগের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্র-জনতা, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ নানা পেশাজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের কাজই জুলাই অভ্যুত্থানে প্রচারিত বিভিন্ন শিল্পীর কার্টুন, পোস্টার ও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের শিল্প ও গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তীর জুলাই অভ্যুত্থানে করা শতাধিক পোস্টারের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ২০টি পোস্টার নিয়ে লাইভ ও এআর-ভিআর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভিআর গ্যালারিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে, তেমনি বিভিন্ন জেলায় প্রযোজনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ভিআর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। শিল্পীর পোস্টারের বিষয়ের নানা পরিপ্রেক্ষিত ও কন্টেক্সট এআর-ভিআরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। যেখানে নির্দিষ্ট পোস্টারের কন্টেক্সট ও পরিপ্রেক্ষিতের নানা ঘটনা, তথ্যচিত্র, অডিও, ভিডিও ভিআর কন্ট্রোলারের মাধ্যমে দর্শক ইন্টারেক্টিভ পদ্ধতিতে দেখার প্রয়াস পাবে।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত; প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
