নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের (বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) বিরুদ্ধে শ্রম আদালতের পাঁচটি মামলার কার্যক্রম বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। আদালত আদেশে বলেছে, ‘মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা দেখলাম, হাইকোর্টের রায় ও আদেশে কোনো আইনি দুর্বলতা এবং আইনিভাবে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে অনুযায়ী, আবেদনের (রাষ্ট্রপক্ষের) মেরিট (যোগ্যতা) বর্জিত হিসেবে লিভ টু আপিলগুলো খারিজ করা হলো।’ গত ৬ জানুয়ারি এ আদেশ প্রকাশিত হয় বলে গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান। গত ৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রায় দেয় বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ। গত ২৪ অক্টোবর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মামলা বাতিলে দেওয়া রুল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছিল। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ড. ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মচারী। চাকরিচ্যুত অন্য দুজন একই বছর আরও দুটি মামলা করেন। এসব মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে ২০২০ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হাইকোর্ট মামলা বাতিলে রুল দেয়। ব্যারিস্টার মুস্তাফিজ বলেন, মামলায় অভিযোগ ছিল তাদের (মামলার বাদীপক্ষ) ট্রেড ইউনিয়ন অ্যকাটিভিটিজের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়। আর এ কারণে কেউ চাকরিচ্যুত হলে প্রথমে শ্রম অধিদপ্তরে নালিশ করতে হয়। অধিদপ্তর যদি অভিযোগের সারবত্তা পায়, তাহলে অধিদপ্তর শ্রম আদালতে মামলা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাদীপক্ষের অভিযোগের কোনো সারবত্তা খুঁজে পায়নি শ্রম অধিদপ্তর। কিন্তু তারা সরাসরি শ্রম আদালতে মামলা করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
