তেল না পেয়ে টিসিবির পণ্যে অনাগ্রহ ক্রেতাদের

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩৭ এএম

‘দোকান বন্ধ করে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ায় থাকে সিরিয়াল পালাম। তাও ডিলার আসল জিনিস তেল দিলো না। ২৭০ টাহা নিয়ে খালি পাঁচ কেজি চাল আর দুই কেজি ডাল দিল। এ নেওয়ার চেয়ে দোহানে চা বেচলেই লাভ হতো।’ গতকাল রবিবার দুপুরে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার এলংগীপাড়া এলাকার চা-বিক্রেতা মিজানুর রহমান টোনে।

তার ভাষ্য, তিন মাস আগে টিসিবির ডিলার ৪৭০ টাকা নিয়ে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল দিতেন। কিন্তু বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিলার গত দুই মাস ধরে সয়াবিন তেল দিচ্ছে না।

গরিব মানুষ সাধারণত তেল আর ডালের জন্যই টিসিবির পণ্য নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে বলে জানান একই এলাকার বৃদ্ধা হাজিরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘অন্যের বাড়ি কাম কাজ করে খাই। বাজারে দুই লিটার তেলের দাম ৩৫০ টাকা। তবে ডিলার আগে ২০০ টাকায় দুই লিটার তেল দিত। মানুষ কোনোমতে খায়ে বাঁচত। এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।’

শুধু মিজানুর আর হাজিরা খাতুন নন, টিসিবির পণ্যে তেল না থাকায় চরম অসন্তোষ উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৬৩২ জন গ্রাহকের। তাদের মধ্যে ৫৭০ জন টিসিবির পণ্যে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনি, আলু পেঁয়াজ প্রদানের দাবিতে রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন দেন।

জানা গেছে, গত শনিবার কুমারখালী পৌরসভার নবগ্রহ মন্দির এলাকায় ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহকদের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিতরণ করেন ডিলার রুবেল হোসেন ও উজ্জল হোসেন। ডিলারের কাছে তেল না থাকায় সেদিন ডিলার ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ব্যাপক বাগবিতন্ডা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

লিখিত অভিযোগকারীদের মধ্যে পৌরসভার এলংগী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ খান বলেন, ‘অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা, আলু, পেঁয়াজের দাম নিম্নবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আবার ডিলার টিসিবির তেল বাদ দিয়ে নিম্নমানের চাল ও ডাল দিচ্ছে। আমরা টিসিবিতে সব নিত্যপণ্য চেয়ে লিখিত আবেদন করেছি।’

ডিলার রুবেল হোসেন বলেন, ‘আগে ৪৭০ টাকার বিনিময়ে চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হতো। তেলের বরাদ্দ না থাকায় গেল দুবার ২৭০ টাকায় চাল ও ডাল দেওয়া হয়েছে। তবে তেল ছাড়া গ্রাহকরা পণ্য নিতে চান না। হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করে পণ্য বেচা লাগছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় তেল দেওয়া বন্ধ আছে। গ্রাহকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তেলসহ অন্যান্য পণ্য দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত