অবশেষে মিরসরাই শিল্পনগরে জট খুলেছে পানির। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বেজা (বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি) ও চট্টগ্রাম ওয়াসা মিরসরাই শিল্পনগরে সরবরাহ করার পানির দর নির্ধারণ করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে। আর সেই দরের সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ সার্ভিস যুক্ত করে পানির চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আর এতে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিয়ে জটলার মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
মিরসরাই শিল্পনগরে পানি সরবরাহের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথরিটির মাধ্যমে। এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে পিপিপির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে এই প্রকল্পটি নিয়ে মিটিং করে যাচ্ছি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেজা ও চট্টগ্রাম ওয়াসা যৌথভাবে সার্ভের মাধ্যমে পানির দর চূড়ান্ত করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা বেজার দরের সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ যুক্ত করে পানির দর চূড়ান্ত করতে ওয়াসাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ৮ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে ‘তাইয়েং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ নামের কোরিয়ান কোম্পানিটি মিরসরাই থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে চাঁদপুরের মোহনপুর থেকে দিনে ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করবে। দুই ফেইসে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্টে নীতিগত অনুমোদন হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। পানির বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর এখন কাজ শুরু হতে পারে।
মিরসরাই শিল্পনগরের বাস্তব অগ্রগতি ও পানির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেজার মহাপরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দয়ানন্দ দেবনাথ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্রকল্পের যা অগ্রগতি, সেখানে দিনে তিন থেকে চার কোটি লিটার পানির প্রয়োজন। এই পানি বিভিন্ন কারখানা নির্মাণে এবং চলমান কারখানাগুলোয় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ২০২৮ সাল নাগাদ পানির চাহিদা দিনে ১০ কোটি লিটারে পৌঁছাতে পারে।’
বর্তমান চাহিদার পানি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে জানতে চাইলে দয়ানন্দ দেবনাথ বলেন, ‘আমরা ফেনী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে সেই পানি পরিশোধনের মাধ্যমে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’
কিন্তু আগামীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে মেঘনা থেকে পানি সরবরাহের যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেখান থেকে কবে পানি নেবেন? এই প্রশ্নের জবাবে দয়ানন্দ নাথ বলেন, ‘ওয়াসা আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক। তা পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
পানির দর কত হতে পারে : পিপিপি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কয়েক দফায় স্টাডি করে কোরিয়ান কোম্পানির বিনিয়োগ ও পানি সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে একটি দর নির্ধারণ করে। সেই দরের সঙ্গে বেজা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার আরোপিত ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ সংযোজন করে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দর ১১০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
যেহেতু এই পানি দিয়ে শিল্পপণ্য উৎপাদিত হবে এবং তা বিদেশে রপ্তানি হবে, তাই এতে ভর্তুকি মূল্যে পানি সরবরাহের কোনো বিধান নেই।
প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও মিরসরাই শিল্পনগর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার ব্যাসের পাইপ দিয়ে চাঁদপুরের মোহনপুর থেকে দুটি বোস্টার স্টেশনের মাধ্যমে পানি আসবে মিরসরাইয়ে। এই লক্ষ্যে প্রথমপর্যায়ে ২০২৮ সাল নাগাদ দিনে ২৫ কোটি লিটার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০৩২ সাল নাগাদ আরও ২৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি পৌঁছে দেওয়া। বেজার পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরি করার কথা।’ অন্য এক সূত্রে জানা যায়, কোরিয়ান কোম্পানিটি ৩০ বছর প্রকল্পটি চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
