মানিকগঞ্জ

উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার-বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাতের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৪ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে । আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর।

এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়নের চর আজিমপুর গ্রামের ভুক্তভোগী প্রবাসী কাজী শরিফুর রহমানের বড় ভাই কাজী আরিফুর রহমান বাদী হয়ে রোববার (১২ জানুয়ারি) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী কাজী শরিফুর রহমান সম্প্রতি দেশে ফেরেন। তার স্ত্রী চাঁদনী পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে ৪ জানুয়ারি জনৈক যুবকের সঙ্গে অন্যত্র পালিয়ে যান। এ সময় চাঁদনী শরিফুল ইসলামের বিদেশ থেকে আনা ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল ও দুটি স্মার্ট ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুজির পর রাতে থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর উল্টো চাঁদনী আক্তারকে খুন করে লাশ গুম করার অভিযোগে আরিফুরের পরিবারের লোকজনকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। 

এদিকে পুলিশকে চাঁদনীর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে দেখার অনুরোধ করলেও নানা অজুহাতে ৫ দিন অতিবাহিত হয়। পরে ওসির সহযোগিতায় থানা পুলিশ গত ৯ জানুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে সাভারের বিরুলিয়া এলাকার ৫ তলা ভবন থেকে চাঁদনীসহ জড়িত ওই যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সকলের উপস্থিতিতে চাঁদনী আক্তারের কাছ থেকে সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণাললংকার উদ্ধার করে পুলিশ । 

এ সময় অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে চাঁদনীসহ জড়িত ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চাইলে ওসি উল্টো তাদের পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখান। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাতের মামলা না নিয়ে চাঁদনীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি । চাঁদনী রাজি হলে ওসি তাদের দুজনকে ছেড়ে দেন। ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর প্রবাসী কাজী শরিফুলের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পরিবারটিকে হেনেস্তা করেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

ভুক্তভোগী প্রবাসীর বড় ভাই অভিযোগকারী কাজী আরিফুর রহমান বলেন, ওসি এখনো আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে। তাদের মালামাল ফেরত পেতে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন ও এসআই মুত্তালিব চাঁদনীকে উদ্ধার করেন । টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার ছিল কিনা সেটা তারাই বলতে পারবেন। আমার সামনে যখন আনা হয় তখন সেখানে একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। জিনিসপত্র নিয়ে কোনো কথা হয়নি । 

এদিকে ভিকটিম চাঁদনীকে উদ্ধারকারী এসআই মো. মুত্তালিব বলেন, ভিকটিমের বাবার দায়ের করা একটি নিখোঁজ জিডির প্রেক্ষিতে একজন লোকসহ চাঁদনীকে উদ্ধার করেছি। চাঁদনীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মধ্যে নগদ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা, স্বর্ণের আংটি, কানের দুল, একটি মোবাইল সেট ও পায়ের নূপুর আমাদের কাছে দিয়েছিল। মেয়েকে যখন অভিভাবকের জিম্মায় দেই তখন মালামালগুলো তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জিডির প্রেক্ষিতে সাভার থানা পুলিশ সঙ্গে নিয়ে বিরুলিয়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এক যুবকের সঙ্গে চাঁদনীকে পাই। আমাদের থানায় আনার পর মেয়ের জিনিসপত্রগুলো তাকেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, বিষয়টি আমি দেখব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত