জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গতকাল সোমবার বিকেলে মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারের ৯ প্রস্তাব তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান।
ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব করছি, অন্য সংগঠনগুলোও করবে। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে যৌক্তিক সংস্কারগুলো নিশ্চিত করে জানুয়ারির মধ্যে ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চায়। আমরাও চাই। তবে ডাকসু আয়োজন করতে প্রশাসন যদি অতিরিক্ত সময় চায়, যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।’
নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডাকসু একটি প্রতিযোগিতামূলক জায়গা। আমরা এটিকে দ্বন্দ্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই না। বরং প্রতিযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। তাছাড়া নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন হলে কোনো সংগঠন আগ বাড়িয়ে সংঘাতে জড়াবে না। কারণ কেউ যদি আগ বাড়িয়ে সংঘাতে জড়ায়, শিক্ষার্থীরা তাকে আর ভোট দেবেন না।’
ঢাবি শিবিরের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, ডাকসুতে সভাপতির (উপাচার্য) ক্ষমতা হ্রাস করে পদটিকে একটি আলংকারিক করা, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদকে আলাদা করে পাঠাগার, পাঠকক্ষ ও কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক এবং ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক পদ তৈরি করা, সাহিত্য সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদকে একীভূত করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদ তৈরির ও নারী ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক, ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক নামে নতুন পদ তৈরির প্রস্তাব করেছে ছাত্রশিবির। নতুন দুই পদ প্রস্তাবের বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের সব হলের মধ্যে ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা আছেন, তাদের মধ্যকার আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ধর্মের সত্যিকারের অধিকার ঠিকঠাক সংরক্ষণ হচ্ছে কি না, তা দেখতে এই পদ তৈরির আহ্বান করেছি।’
