গণভবনে কে বসবে দিল্লি আর সে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৫৭ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে মাইনাস করার চিন্তা করলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। তরুণদের বাদ দিয়ে যদি কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয় তা মেনে নেবে না। যে কলম ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকবে সেই কলম আমরা তুলে নেব। ফ্যাসিবাদের পক্ষে যে মিডিয়া কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে তরুণরা থাকবে। যেসব মগজ ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করবে তরুণ প্রজন্ম তাদের চিন্তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকবে। পরে যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা তরুণ প্রজন্মের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে, তাদেরও তাই হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আগে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, সহ-মুখপাত্র আরেফীন মুহাম্মাদ হিজবুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য শওকত আলী প্রমুখ।

হাসনাত বলেন, বিপ্লবীরা যখন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করছে তখন রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা বিপ্লবীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই আমাদের হারানোর কিছু নেই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি না, এটা এখন প্রাসঙ্গিক না। আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটা নেতাকর্মীকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করতে হবে।

হাসনাত আরও বলেন, বিগত দিনে দুবৃর্ৃৃত্তায়ন, প্রতিহিংসার রাজনীতি তরুণ সমাজকে আশাহত করেছে, তরুণ সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, ওই কারণে তরুণ সমাজ রাস্তায় নেমেছে। তরুণ প্রজন্ম ভয়হীন মনোভাব নিয়ে দ্রোহের আগুন দিয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে।

সকালে শহরের চাষাড়ায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শেষে দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে চিটাগাং রোড ও সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে পথসভা, লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।

দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে পথসভায় হাসনাত আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রশ্নে আমরা আপসহীন। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ার আগে যেসব তরুণরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এ দেশে ভারতের দাদাগিরি আর চলবে না। গণভবনে কে বসবে সেই সিদ্ধান্ত আর দিল্লি থেকে আসবে না। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সব ধরনের ম্যাকানিজম চলছে। মনে রাখতে হবে গর্দান এবং তলোয়ার দুটি একসঙ্গে থাকতে পারে না। এ বাংলাদেশে খুনি আওয়ামী লীগ ও আমরা বিপ্লবী কখনো এক জায়গায় থাকতে পারব না। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে হয় আওয়ামী লীগ থাকবে, না হয় বিপ্লবীরা থাকবে।

হাসনাত বলেন, যে আওয়ামী লীগের হাতে দুই হাজারের অধিক মানুষের রক্ত লেগে আছে, তাদের নিয়ে যারা নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তারা ভুল ভাবছেন। আমাদের লড়াই শেষ হয়ে যায়নি, শহীদ হওয়ার যাত্রা অব্যাহত থাকবে। সাঈদ মুগ্ধসহ আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছে। পরবর্তী শহীদদের খাতায় হয়তো আমার কিংবা আপনার নামও থাকতে পারে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যেক খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি চাঁদাবাজের পরিবর্তন হয়েছে। দখলবাজের পরিবর্তন হয়েছে। তেল চালের দাম আকাশছোঁয়া। নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তাহলে আমরা এ বিপ্লব থেকে কী পেলাম। আমাদের দেশে যারা প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রয়েছেন, তারা এখন ক্ষমতা দখলের মহড়া ও প্রতিযোগিতা করছে।

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্থা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, সহ-মুখপাত্র আরেফিন মুহাম্মাদ হিজবুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য শওকত আলী ও নারায়ণগঞ্জ এবং সিদ্ধিরগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত