ব্রাজিলের স্কুলশিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নতুন আইনটি স্বাক্ষরের পর আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এই আইন এলিমেন্টারি এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হবে।
এই নতুন আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতি, বিপদ, শিক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজন অথবা মৌলিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে। এ বিষয়ে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী কামিলো সান্তানা বলেন, শিশুরা এখন খুব অল্প বয়সে অনলাইনে বিচরণ করছে। যার ফলে অভিভাবকদের জন্য তাদের কার্যকলাপে নজর রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই অন্যান্য অনেক দেশের মতো, স্মার্টফোন শুধু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং শিক্ষকের নির্দেশনায় ব্যবহার করা হোক।
এই আইনটি রাজনৈতিকভাবে বিরল সমর্থন পেয়েছে। বামপিন্থ প্রেসিডেন্ট লুলা এবং তার ডানপন্থি প্রতিপক্ষ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো উভয়পক্ষেরই এতে সমর্থন রয়েছে। এমনকি দেশটির অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীও এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান পোলস্টার ডেটাফোলিয়া অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এক জরিপে জানিয়েছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ স্কুলে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে। ৭৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ডিভাইসগুলো তাদের সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ইন্টারনেট স্টিয়ারিং কমিটি গত বছরের আগস্ট মাসে প্রকাশিত এক জরিপে জানায়, ২৮ শতাংশ স্কুল সম্পূর্ণভাবে এটি নিষিদ্ধ করেছে। ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো, মারানহাও এবং গোইয়াস রাজ্য ইতিমধ্যেই স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য স্থানীয় আইন পাস করেছে। তবে কর্র্তৃপক্ষ এসব আইন কার্যকর করতে সংগ্রাম করছে। পাবলিক এবং প্রাইভেট স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়ে ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ রাজ্য সাও পাওলো কর্র্তৃপক্ষ এখনো আলোচনা করছে।
ইউনেস্কোর সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ দেশ ইতিমধ্যেই স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শুনানিতে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের শোষণ, বুলিং বা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।
