অনুমোদন আবাসিকের, বানাচ্ছে হাসপাতাল

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল বানানোর অভিযোগ উঠেছে মনজুরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে । এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)।

সরেজমিনে সংস্থাটির তদন্তেও ওঠে এসেছে ওই ভবন নির্মাণে নিয়ম না মানার বিষয়টি। মূলত সিডিএ আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেও সেখানে তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী মো. শহীদ উল্লাহ। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণাধীন বহুতল ওই ভবনের পাশেই ‘আনোয়ারা ম্যানসন’ নামে একটি চারতলা ভবনের মালিক তিনি।

অভিযুক্তরা হলেন- নগরের চকবাজার থানার মেহেদীবাগ এলাকার মৃত মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, নুর আক্তার বানু বেগম, হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহীদ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘মূলত আমার চারতলা ভবনটি মেহেদীবাগ ৭০৯/বি সড়কে। যেটি আমার বাবা ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের সামনে দুটো প্লট রয়েছে। যার মধ্য দিয়ে ৮ ফুট একটি রাস্তা আমাদের মালিকানাধীন। এই রাস্তার বাম পাশেই ১৪ তলা র‍্যাঙ্কন ভবন আছে। আর ডান পাশে একটি ১০তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন সিডিএ’র অনুমোদিত নকশায় নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু ভবনের নির্মাণকাজ নকশার অনুসারে না করে সিডিএর অনুমোদনের বাইরে গিয়ে করা হচ্ছে, যা ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন।’

ওই ভবন নির্মাণ কাজের জন্য তার ভবন ও বাসিন্দারা মারাত্মক হুমকির মুখে উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা এমনভাবে ভবন নির্মাণ করছে যা আলো-বাতাস চলাচল, ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার জন্য যা মারাত্মক হুমকি। তারা এমনভাবে ভবন নির্মাণ করছে যেখানে তারা তাদের নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে আমাদের সীমানা পর্যন্ত ওদের স্থাপনা চলে আসছে। গত বছরের ২৫ জুলাই আমি সিডিএ’তে অভিযোগ দেই। এ ছাড়া আমি পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় কাউন্সিলরকেও একই অভিযোগ দিয়েছি। সবশেষ একইবছরের ২৫ নভেম্বর সিডিএ’তে আমি আরও একটি অভিযোগ দিই। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিডিএ নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়।’

নির্মাণাধীন ওই দশ তলা ভবন মালিকদের দেওয়া সিডিএর ওই নোটিশ দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সিডিএ কর্তৃক যে ১০তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তার শর্ত অমান্য করেই নির্মাণ কাজ চলছে। যেটি সরেজমিন তদন্তে সংস্থাটি প্রমাণ পেয়েছে।

ভবনের নিচতলায় তিন পাশে যে পরিমাণ জায়গা খালি রেখে স্থাপনা করার কথা তা রাখা হয়নি। এ ছাড়া দ্বিতীয় থেকে ১০ তলা পর্যন্তও একই কাজ করা হয়েছে। তা ছাড়া আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার এবং এর জন্য ভবন লাগোয়া একটি সিঁড়িও নির্মাণ করছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। এ ছাড়া কাজ বন্ধ না রাখলে আইনানুগ গ্রহণের কথাও বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শহীদ উল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত সিডিএর এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো আলামত দেখতে পাইনি। সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেও আমি এ বিষয়ে অবগত করেছি। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।’ 

নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সিডিএকে আবেদন জানান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, এখানে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ইতোমধ্যে রয়েছে তার সাথে নতুন করে আরও একটি হাসপাতাল হলে এই সড়কে যানজট বহুগুণে বাড়বে। তা ছাড়া এমন এলাকায় হাসপাতাল করলে হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন র‍্যাডিয়েশন,বর্জ্য বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মানে ব্যাঘাত ঘটাবে। শুধু তাই নয় নকশা এবং ইমারত বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শঙ্কাও তৈরি হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভবন মালিক মো. মনজুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় বাসা থেকে বের হতে পারি না। কিছুদিন পরপর আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। আবাসিক কাম বাণিজ্যিক স্থাপনার স্থলে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি আসলে জানি না। আমি ডাক্তারদের ভাড়া দিয়েছি। তারা নিয়ে কী করছে তারাই জানে। ভবন মালিক হিসেবে আপনার অজ্ঞাতে এমন কাজ সম্ভব কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার মেয়ের জামাই সারোয়ার এগুলো দেখছে। তা ছাড়া মা ও শিশু হাসপাতালের একজন ডাক্তার আছেন ফজলে করিম নামে যিনি এগুলো দেখছেন। 

সিডিএর কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো জানি না এগুলো ওরা (ডাক্তাররা) ডিলিংস করতেছে। আর আমার পক্ষে এগুলো জানেশুনে আমার মেয়ের জামাই সরোয়ার। অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারছি না এখন। হাসপাতাল হলে সেটা থেকে নির্গত র‍্যাডিয়েশন বা অন্যান্য উপাদান গুলো থেকে বাসিন্দাদের ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। 

অভিযোগকারী শহীদ উল্লাহ্ বিরুদ্ধে মনজুর ইসলাম বলেন, ওদের জায়গার ভেতরে আমাদের ও জায়গা আছে কিন্তু আমরা সেটা দাবি করি না। আমরা দাবি করলে তারা যে অবৈধভাবে আর এস বিএস করছে সব বের হয়ে আসবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত