বাংলাদেশে এখনো নিরাপত্তা বাহিনী নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। অধিকারকর্মীদের বরাতে মানবাধিকার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী সমর্থক ও সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং তাদের আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বৈশ্বিক প্রতিবেদন-২০২৫ প্রকাশ করে। শতাধিক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ৫৪৬ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার-কেন্দ্রিক ভবিষ্যতের উদ্দেশে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভালো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলের গুমের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কিন্তু ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এসব অগ্রগতি ম্লান হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার হামলায় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
অধিকারকর্মীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম প্রসঙ্গে জাতিসংঘের কনভেনশনে যোগদান করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে বা (গুমের ব্যাপারে) তাদের পরিবারকে জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যতের দিকে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এর অগ্রগতি নস্যাৎ হতে পারে।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এবং শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এই প্রতিবেদনে। বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গ্যাংয়ের সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনিবন্ধিত শরণার্থীরা ক্ষুধার ঝুঁকিতে আছে। মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এই ভয়ে তারা কোনো স্বাস্থ্যসেবাও নিচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা, জোরপূর্বক নিখোঁজের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নজরদারির তাগিদ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।
এছাড়া, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) বিলুপ্ত, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে পুনর্গঠন করে স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে জনমনে অসন্তুষ্টি আছে: নুর
সংবিধান সংস্কার নিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফের বিবৃতি