ঝাড়ুদারের পারিশ্রমিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পকেটে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৫ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ঝাড়ুদারের পারিশ্রমিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক চৌধুরী আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাগজ-কলমে খোদেজা বেগম নামের ঝাড়ুদারের পারিশ্রমিক নিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হলেও এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, আজিমপুর মহল্লার খোদেজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ঝাড়ুদারের কাজ করে আসছিলেন। সরকারি ছুটি ছাড়া মাসে ২২ কর্মদিবসে প্রতিদিন ৫৫০ টাকা হিসেবে পারিশ্রমিক বরাদ্দ। সেই হিসেবে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ওই ঝাড়ুদার ১১ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। ইতিপূর্বে কর্মকর্তারা ঝাড়ুদার খোদেজাকে প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার করে টাকা দিতেন। বাকি টাকা সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেন।

এদিকে, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস চলে যায় খাদ্য গুদাম চত্বরে। কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয় ঝাড়ুদার খোদেজাকে। এদিকে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে ফারুক চৌধুরী সিংগাইরে যোগদান করেন। এরপর থেকে ৩ মাস অন্তর অন্তর ঝাড়ুদারের পারিশ্রমিক ৩৩ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন ফারুক চৌধুরী।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে ঝাড়ুদার খোদেজা বেগমের নামে তিন মাসের পারিশ্রমিক ৩৩ হাজার টাকার বিল খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক চৌধুরীর স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হয়েছে। তার আগেও ৩ মাসের ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝাড়ুদার খোদেজা বেগম বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই উপজেলায় অফিস থাকাকালে কাজ করেছি। মাসে ৩ হাজার টাকা করে বেতন দিতেন। অফিসের পুরনো বিল্ডিং ভেঙে ফেলার পর আর আমাকে দিয়ে কাজ করায় না। আমি বলে রেখেছি, নতুন ভবনে এলে আমাকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক চৌধুরী প্রথমে খন্ডকালীন একজন ঝাড়ুদারের কথা স্বীকার করলেও তাৎক্ষণিক তা অস্বীকার করেন। বর্তমানে গুদাম ঘরের ঝাড়ুদার দিয়ে কাজ করানো হয়। ঝাড়ুদারের বেতন আত্মসাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুন মাস পর্যন্ত বেতন আমার স্টাফ হোসনে আরা উত্তোলন করেছে। এ ব্যাপারে তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

এদিকে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী উপ-খাদ্য নিয়ন্ত্রক হোসনে আরা বলেন, ‘যা কিছু হয়েছে স্যারের নির্দেশে হয়েছে। অধীনস্তদের কর্মকর্তার কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘এটা আর্থিক অনিয়ম, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। উপজেলার পক্ষ থেকে বিষয়টি আমি দেখব।’

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘উপজেলার বিষয়গুলো আমি ভালো করে জানি না। সবকিছুর খবর নিয়ে আমি আপনাকে জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত