নারায়ণগঞ্জ 

শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে দুই গার্মেন্টসে উত্তেজনা, কারখানা বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টি গার্মেন্টসে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে শ্রমিকরা। এ সময় ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফতুল্লার শাসনগাও এলাকাস্থ মাদার কলার ও আরএস গার্মেন্টস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শনিবার মাদার কালার গার্মেন্টসের এক শ্রমিককে মারধর করা হয়। এরই জেরে রবিবার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের আর এস নামক একটি কারখানার শ্রমিকদের নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু আর এস এর শ্রমিকরা তাদের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শ্রমিকরা কারখানা দুটিতে হামলা চালায়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মাদার কালার গার্মেন্টস কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি এসে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। দুপুরের পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মাদার কালার গার্মেন্টসের গেটে ছুটির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সাথে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে গার্মেন্টস খোলা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট এডমিন ম্যানেজার শাহনেওয়াজ জানিয়েছেন।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ বিনা কারণে মালিকপক্ষ একজন শ্রমিককে মারধর করে। শ্রমিককে মারধরের বিচার চাইতে গেলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেয়। যার কারণে বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে।

মাদারকালার গার্মেন্টস কারখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট এডমিন ম্যানেজার শাহনেওয়াজ জানান, রিপন নামের একজন অপারেটর চার দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে শনিবার লাইন সুপারভাইজার মিজান তাকে ধমক দিয়ে কথা বলেন। এতে ক্ষুব্ধ রিপন সুপারভাইজার মিজানকে মারধর করে। মিজান ও রিপনের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অপারেটর রিপন অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় সুপারভাইজার মিজানকে মারধর করে।

পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দুই শ্রমিককে ডেকে নিয়ে তাদের সাথে কথা বলে। এ সময় গুজব রটানো হয় অপারেটর রিপনকে মালিকপক্ষ মারধর করে আটকে রেখেছে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে মাদার কালার কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টস ছুটি দিয়ে দেয়। পার্শ্ববর্তী আর এস গার্মেন্টসেও ছড়িয়ে পরে উত্তেজনা। বাধ্য হয়ে সেই গার্মেন্টসেও ছুটি দেওয়া হয়।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেস্ট স্টাইলিস্ট, মাদার কালারসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটির ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারখানার আশপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই মাদার কালারে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রবিবার সে উত্তেজনা আশেপাশের আরও একটি গার্মেন্টসে ছড়িয়ে পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত