দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

দুর্নীতি আর অনিয়মের অপর নাম শাহজাহান

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৬ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।  প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে মো. শাহজাহান খান ভারপ্রাপ্ত প্রধানের শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতিতে রূপ নেয় ভিন্নতা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের বছর খানেক যেতে না যেতেই তার বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। সম্প্রতি তার নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন অভিভাবক ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. শাহজাহান খান গত ২০১৯ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয়টি দুর্নীতি আর অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত সরকারি আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন কায়দায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। ক্রয় কমিটি গঠন না করে অর্থ ব্যবস্থাপনা বিধি উপেক্ষা করে ইচ্ছেমত ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন ও ব্যয় দেখাচ্ছেন বিভিন্ন খাতে। হিসাবে গড়মিল রেখে ভুয়া ভাউচার তৈরী করে আসবাপত্র ক্রয় করারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সরকারী বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ক্ষতি সম্মুখীন  হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে দেখা দিচ্ছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং এর খেসারত দিতে হচ্ছে অভিভাবকদের। 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়,  সরকারি বিধি উপেক্ষা করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রভাব বিস্তার করে ২০০৩ সালে উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি লটারীর অপেক্ষমান ১ম তালিকার ১৯ ক্রমিক ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে ২০ ও ২২ নং ক্রমিকের ছাত্র ভর্তি করেন স্বজপ্রীতির মাধ্যমে । এনিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে ঐছাত্রের অভিভাবক বিষয়টি জানতে গেলে তিনি অসদাচারণ করেন।  সরকারি বিধি উপেক্ষা করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি ও অন্যান্য বাবদ দুই হাজার টাকার অধিক আদায় করেন। এমনকি অকৃতকার্য ছাত্র ছাত্রছাত্রীদের ছাড়পত্র দেয়ার নামেও হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা রকম স্বেচ্ছাচারিতা ও দাম্ভিকতার প্রায়ই দেখতে হয় বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবকদের। একাধিক অভিভাবকরা তার এসব আচরণে ক্ষুব্ধ ।  

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন বলেন , একটি অভিযোগ পেয়েছি। জেলাপ্রশাসক স্যারের নিদের্শনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত