রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৪ এএম

কোনো নীতিমালা ছাড়া মৃত্যুদণ্ড, আমৃত্যু কারাবাস, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমার প্রয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। এতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, আইন ও বিচার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এখতিয়ার সম্পন্ন বেঞ্চে কার্যতালিকায় এলে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান এ আইনজীবী।

আবেদনে নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ক্ষমা করার ক্ষমতা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি না করার নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলের আরজি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার প্রয়োগে সংশ্লিষ্টদের নীতিমালা তৈরি করার নির্দেশনা দিতেও আরজি জানানো হয়েছে আবেদনে।

আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষমা করার ক্ষমতা অবাধ। কিš‘ কেন, কীসের ভিত্তিতে ক্ষমা পাচ্ছেন সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। এটি সংবিধানের ৭, ২৭,  ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তি। তিনি কাউকে ক্ষমা করতেই পারেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, বছরের পর বছর, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি করা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। ইতিমধ্যেই এই ক্ষমতা ব্যবহার করে হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং ঘৃণিত অনেক আসামি ক্ষমা পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই হত্যা বা গুরুতর অপরাধের বিচারে ধীর গতি রয়েছে। অধস্তন থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়। অন্যদিকে বিচারের পরেও ঘৃণিত আসামিরা যখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় পার পেয়ে যায় তখন জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে অন্তরায়। তাই এ নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন আবশ্যক বলে মনে করি।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত