নষ্ট হচ্ছে অর্ধকোটি টাকার রেসকিউ বোট

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:৩৭ এএম

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চলের জনগণকে দ্রুততম সময়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে ব্রহ্মপুত্র জামালপুর-১ নামে মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেসকিউ বোটটি (উদ্ধারকারী নৌকা) কর্মকর্তাদের অবহেলায় নষ্টের পথে। বোটটি বর্ষা মৌসুমে অযতেœ পানিতে ভেসে থাকে। আবার শুকনো মৌসুমে নদের পাড়ে কংক্রিটের ওপর রোদে শুকায়। এভাবেই নষ্ট হচ্ছে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বোটটি। এরই মধ্যে অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এটি। কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারের অর্ধকোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যাকবলিত এবং উপকূলীয় জেলার জন্য ৬০টি মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেসকিউ বোট তৈরি করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালে ৮টি বোট বিভিন্ন জেলায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে জামালপুরসহ আরও ৫২টি জেলায় বোট হস্তান্তর করে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। রেসকিউ বোটের দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট ও প্রস্থ ১২.৫০ ফুট। ৮০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ রেসকিউ বোটটি ঘণ্টায় ৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এর মাধ্যমে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চলের জনগণকে দ্রুত সময়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া যায়। জামালপুর জেলায় দেওয়া মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেসকিউ বোটটি জিলা স্কুলের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শহররক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ওপর অবহেলায়-অযতেœ নষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় বোটটির বিশাল ছাউনি থাকলেও এখন এর কোনো অস্তিত্বই নেই। ইঞ্জিনসহ মূল বডির ভেতরে পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে বোটের বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বোটটি এখানেই পড়ে রয়েছে। পানি বাড়লে বোট ভেসে থাকে। আর শুকনো মৌসুমে শহররক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ওপর পড়ে থাকে। কখনো বোটটি ব্যবহার হয়েছে বলে জানা নেই। সবসময় এ জায়গায় পড়ে থাকতেই দেখি। বর্তমানে প্রায় সবকিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। ইঞ্জিনের ভেতরেও পানি জমেছে।

শহররক্ষা বাঁধের ওপর হাঁটছিলেন ইকবালপুর এলাকার সারোওয়ার তুহিন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এ পথে হাঁটাহাঁটি করি। তিন-চার বছর ধরে বোটটি এখানেই দেখছি। কোনো সময় ব্যবহার হয়েছে বলে মনে হয় না। পড়ে থেকেই বোটটি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। যদি একটু ব্যবহার বা যতœ নেওয়া হয়তো তাহলে সরকারি সম্পত্তিটি রক্ষা পেত।’

পাথালিয়া এলাকার রাসেল হোসেন বলেন, ‘এ জেলা বন্যাকবলিত এলাকা। বিশেষ করে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ি ও মাদারগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে বন্যার সময় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের জন্য বোটটি খুবই প্রয়োজন। বোটটি নষ্ট হয়ে গেলে ওইসব এলাকার মানুষের অনেক সমস্যা হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বোটটি মেরামত করা দরকার।’

সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, এ জেলায় প্রতি বছরই বন্যা হয়ে থাকে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ অঞ্চলের মানুষ। বন্যায় প্রতি বছরই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তাই এ জেলার জন্য রেসকিউ বোট খুবই প্রয়োজন। তবে বোট পেয়েও অবহেলা-অযতেœ নষ্ট হচ্ছে, বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পানির সমস্যায় বোটটির এ অবস্থা হয়েছে।’ কর্মকর্তার অবহেলায় বোটটি নষ্ট হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। আর আমরা মেকানিকও না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত