জয়িতার পণ্য মন কাড়ছে দর্শনার্থীদের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২২ এএম

দিন যতই যাচ্ছে মেলায় ততই বাড়ছে ভিড়। রূপসী থেকে মেলায় পরিবার নিয়ে এসেছেন মৌসুমী আক্তার। কেনাকাটা করেন জয়িতা প্যাভিলিয়নে। তিনি প্রতিবছর জয়িতা থেকে পণ্য কেনেন। তিনি দেশর রূপান্তরকে বলেন, জয়িতার পণ্য গুণে-মানে সেরা। শুধু মৌসুমী নন তার মতো অনেক তরুণী ও নারীর কাছে জয়িতার পণ্য শীর্ষে। এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও তরুণী ও নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জয়িতা প্যাভিলিয়নের পণ্য। মেলার অন্যান্য বিদেশি কাপড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে এসব দেশীয় পণ্য। তুলনামূলক দাম কম ও মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রামীণ নারীদের হাতের তৈরি এসব পণ্য কিনছেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে নারী উদ্যোক্তাদের জয়িতা প্যাভিলিয়নে স্টল বরাদ্দ দিয়েছে। ঢাকা থেকে মেলায় আসা-যাওয়ার জন্য তাদের ফ্রি বাস সার্ভিসও দেওয়া হচ্ছে। এবারে জয়িতা ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে ২৫টি স্টল রয়েছে।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এই স্টলগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। বিকিকিনিও হয় প্রচুর। এই সব স্টলের মালিক, কর্মচারী ও কারিগর সবাই নারী। নিজেদের কারখানায় তৈরি শাড়ি, টু-পিস, ওয়ান পিস, থ্রি-পিস, ওড়না, পাটের তৈরি শোভাবর্ধক জিনিসপত্র, কটি, টেবিলমেট, সালোয়ারের কাপড়, মাটির তৈরি শোপিস, দরজা-জানালার পর্দা, সোফার কুশন, বালিশ কভার, পিতলের তৈরি গৃহস্থালি পণ্যসহ তিন শতাধিক ধরনের পণ্য রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী সিল্ক, কাঁসার তৈরি গৃহস্থালি পণ্য, জামদানি শাড়ি, খেলনা, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, পুতুলসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্যের সমাহারে ভরপুর এ প্যাভিলিয়ন।

এবারের বাণিজ্য মেলা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে বলে মনে করছেন নারী উদ্যোক্তারা।

প্যাভিলিয়নের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়িতা স্টলে জামা ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৭০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, শাড়ি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১৪ হাজার টাকা, ফতুয়া ৪০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, ওড়না ৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সুতি শাড়ি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তাদের কর্মের পরিধির ওপর ভিত্তি করে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ এলাকায় ছোট ছোট কারখানা রয়েছে। ওই কারখানায় গ্রামীণ নারীরাই কারিগর। সেখানে তৈরি করা পণ্যই মেলায় তোলা হয়। দেশে ও বিদেশে এসব পণ্য সমাদৃত। জয়িতা ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নের ১৬ জন অনলাইন জয়িতা অর্থাৎ ই-জয়িতা, ২৬ জন নারী বিক্রয় প্রতিনিধি ও দুজন অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।

নারী উদ্যোক্তা ও উত্তরণ বুটিক্সের কর্ণধার নাজনীন আক্তার মুক্তা বলেন, সবাই হাতের তৈরি জিনিস পছন্দ করেন। তাই জয়িতার প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসেন। এখানে গ্রামীণ নারীদের হাতের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

নারী উদ্যোক্তা শারমীন রহমান বলেন, এবারের বাণিজ্য মেলার ব্যবস্থাপনা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা জনবান্ধব। তাই মেলা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের সব স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।

মেলার ২২তম দিন গতকাল বুধবার ছুটির দিন না হলেও কমতি ছিল না দর্শনার্থীদের। এ দিন মেলাকে ঘিরে এশিয়ান বাইপাস, গাজীপুর বাইপাস, ৩০০ ফুট সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, মেলা পুরোপুরি জমে উঠেছে। ক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও অনেক খুশি। মেলায় প্রতি বছরই জয়িতা প্যাভিলিয়ন থাকে। এ প্যাভিলিয়নের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত