বিচার দিবসে আরশের ছায়া পাবেন যারা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৯ এএম

দুনিয়া আমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। হাশরের ময়দানে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হবে। মহান আল্লাহ সেদিন আমাদের কৃতকর্মের হিসাব নেবেন। হাজার হাজার বছর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। সেই কঠিন মুসিবতের সময় মুমিনদের মধ্য থেকে সাত শ্রেণির মানুষ মহান আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে, আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে। অতঃপর ডান দিকের দল; ডান দিকের দলটি কত সৌভাগ্যবান! আর বাম দিকের দলটি কত হতভাগা!’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত ১-৯)

আরবি ‘কেয়ামত’ শব্দের অর্থ দাঁড়ানো। এই দিন যেহেতু বিচার শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তাই এই দিনের নাম কেয়ামত। এই দিন হবে অত্যন্ত দীর্ঘ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেই দিনের পরিমাণ তোমাদের গণনায় সহস্র বছর।’ (সুরা সাজদাহ, আয়াত ৫) হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী সেদিন সূর্য মাথার এক বিঘত ওপরে থাকবে, পায়ের নিচে জমিন হবে তামার। হাশরের ময়দানে আরশের ছায়া ছাড়া কোথাও কোনো ছায়া থাকবে না। সেদিন নেককার ইমানদাররা আরশের সুশীতল ছায়ায় স্থান পাবেন। বুখারি শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে সেদিন তার আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।’ সেই সৌভাগ্যবান সাত শ্রেণির মানুষের বিবরণী তুলে ধরা হলো।

এক. এমন ন্যায়পরায়ণ শাসক, যে তার অধীনস্তদের মধ্যকার সব বিষয়ের সুষ্ঠু সুরাহা করে। ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করে এবং সর্বক্ষেত্রে ইনসাফের সঙ্গে কার্য পরিচালনা করে।

দুই. এমন যুবক, যে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগির ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে। অর্থাৎ যৌবনকালে যারা ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করে, গুনাহ করার শক্তি ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা আল্লাহর ইবাদতে সময় পার করে।

তিন. এমন ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলন্ত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এক নামাজের পর অন্য নামাজের অপেক্ষায় থাকে। দুনিয়াবি কাজকর্মের ঝামেলা তাকে নামাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না। বরং নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে ওয়াক্ত আসার অপেক্ষা করতে থাকে।

চার. এমন দুই ব্যক্তি, যারা একে অপরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ভালোবাসে, তার জন্যই একত্র হয় এবং প্রয়োজনে আবার তার জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়। তারা এই ভালোবাসার মধ্যে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তালাশ করে।

পাঁচ. এমন ব্যক্তি, যাকে কোনো অভিজাত ও সুন্দরী নারী অপকর্মের দিকে ডাকে, কিন্তু সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির ভয়ে অপকর্ম থেকে দূরে থাকে। আর বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।

ছয়. এমন ব্যক্তি, যে অতি গোপনে দান-সদকা করে। এমনভাবে দান করে, যেন বাম হাত জানতে না পারে ডান হাত কী খরচ করেছে।

সাত. এমন ব্যক্তি, যে নীরবে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে। তার হুকুম আহকাম মোতাবেক জীবনযাপন করে। আল্লাহর ভয়ে তার চোখ অশ্রুসজল থাকে।

হাশরের ময়দানে সব মানুষের বিচার হবে। বিচারের এ ভয়াবহ অবস্থায় মহান আল্লাহ তার প্রিয় সাত শ্রেণির বান্দাকে নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দান করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের উক্ত সাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত