দরবার-ই-জহুর

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৫৯ এএম

পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জহুর হোসেন চৌধুরী ‘দরবার-ই-জহুর’ কলামে তৎকালীন সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ক্লাবের অন্যতম উপদেষ্টা এই সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ১৯৮০ সালের ১১ ডিসেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মারা যান। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ ঘটাতে ছাপা হলো তার লেখা উপসম্পাদকীয়

একটা কথা বহুদিন ধরেই বন্ধুবান্ধব পরিচিতিজনকে আলাপে-আলোচনায় বলে আসছি যে, আমাদের রাজনৈতিক জীবনের সমস্যা প্রধানত দুটি স্ববিরোধিতা এবং যেসব রাজনৈতিক আদর্শের কথা আমরা জোর গলায় প্রচার করে থাকি, সেগুলোর ঐতিহাসিক, দার্শনিক পটভূমিকা সম্বন্ধে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর অজ্ঞতা। সব রকমের মত ও পথের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে থেকে দেখার ফলেই একান্ত বেদনার সঙ্গে উপরোক্ত কথাটা আমাকে বলতে হয়। এ উপলব্ধি নিশ্চয়ই আমার একার নয়। অবশ্য কেবল রাজনীতি ক্ষেত্রে নয়, আজ আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে উপরোক্ত দুটি গুণ জেঁকে বসে সমগ্র সমাজদেহটাকেই বিষাক্ত করে তুলেছে। একজন ব্যবসায়ী বা অফিসার অসাধু বা অমানুষ হলে তাতে ক্ষতি নিশ্চয়ই হয়; কিন্তু একজন ডাক্তার যদি অমানুষ বা অজ্ঞ হয়, রোগীর প্রাণ হারাবার রীতিমতো আশঙ্কা থাকে। তেমনি রাজনীতির ক্ষেত্রে যদি বিঘোষিত আদর্শগুলো সম্বন্ধে অসাধুতা অর্থাৎ স্ববিরোধিতা আর অজ্ঞতাই নেতা ও কর্মীদের অধিকাংশেরই চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য হয়, তবে তা সমগ্র জাতির পক্ষেই পরম অকল্যাণকর হয়। আমরাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমাদের বেশ কয়েকজন প্রাতঃস্মরণীয় নেতা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নীতিবোধের অভাবের পরিচয় যে বারবার দিয়েছেন, এটা মোটেই গোপন ব্যাপার নয়। একজনের ক্ষেত্রে এটাকে আমরা একটা তামাসার ব্যাপার হিসেবে নিয়েছি। কেবল তিনি যখন পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেন, তখনই তার বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রয়োগ করে তাঁর মাঠে-ময়দানে নামা অসম্ভব করে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের ঐরূপ চমকপ্রদ সামগ্রিক বিজয়কে সম্ভব করা হয়।

আমি শেরেবাংলা ফজলুল হক সাহেবকেই যে বোঝাচ্ছি, এ কথা বুঝতে কারও কষ্ট হওয়ার কথা নয়। বাংলার কৃষকের অবস্থার উন্নতির জন্য মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির সৃষ্টির ব্যাপারে তাঁর অবদান এবং সর্বোপরি তাঁর সিংহ-হৃদয়ের খ্যাতি শেরেবাংলার চরিত্রের সকল দুর্বলতাকে ঢেকে দিয়েছে। পাকিস্তান হওয়ার পর সরকারবিরোধী নেতা হিসেবে জনাব সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর সহযোগিতায় এদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেন। কায়েদে আজম জিন্নাহ মুসলিম লীগের সর্বময় নেতা হওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক পরিবেশও নষ্ট হয়ে যায়। অথচ এই জিন্নাহ সাহেবই কায়েদে আজম হওয়ার পূর্বে একবার অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় পরিষদে বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি সর্বশক্তি নিয়ে আপনার বিরোধিতা করব, কিন্তু প্রয়োজন হলে আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি আমার জীবন দেব।’ (I will oppose you with all my might, but if necessary I will give my life for your right to express your opinion freely.) এর আগের দিনের দরবারে যে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের (liberal democracy) জন্য সালাম ভাইয়ের আক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছি, জিন্নাহ সাহেবের উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি তারই মর্মবাণী। কায়েদে আজমের যেটুকু গণতন্ত্রবোধ ছিল, নবাবজাদা লিয়াকত আলী খানের তাও ছিল না। তিনি নিজেকে প্রাক-ইসলাম ইরানের সম্রাট নওশেরোঁয়ার বংশধর বলে প্রচার করে পাকিস্তানে নিজ বংশের রাজত্ব স্থাপন করার পরিকল্পনা আঁটছেন, একথা তার আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হতে শুনেছি। তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে যাদের ষড়যন্ত্রের ফলে, তারাই ক্ষমতাসীন বলে করাচীর ‘ডন’ পত্রিকা বেশ কিছুদিন রীতিমত স্বল্প প্রচ্ছন্ন ছবি ছেপে প্রচার করেছিল। বেগম লিয়াকত আলী রাষ্ট্রদূতের চাকরি গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত স্বামীর প্রকাশ্য জনসভায় দিবালোকে হত্যার নায়কদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যর্থ দাবি করে গেছেন। লিয়াকত আলীর পর যে কজনই পাকিস্তানে ক্ষমতা পরিচালনা করেছেন, তারা আর যাই ছিলেন না কেন, গণতন্ত্রের কোনো ধ্যান-ধারণা যে তাঁদের ছিল, এমন অপবাদ তাঁদের শত্রুরাও দিতে পারবেন না। নাজিমুদ্দিন সাহেবকে ক্ষমতাচ্যুত করে গোলাম মোহাম্মদ যখন বগুড়ার জনাব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী করেন, তখন মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির একটা ডেপুটেশন তাঁর কাছে গিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আবেদন জানালে তিনি জবাব দেন, ‘কায়েদে আজমের কাছে আপনারা গণতন্ত্র চাননি, কায়েদে মিল্লাতের কাছে চাননি, আমি কি অপরাধ করেছি যে, আপনারা আমার কাছে এটা চাচ্ছেন?’

পাকিস্তানে জনাব সোহরাওয়ার্দী একবার বলেছিলেন, ‘এদেশে গণতন্ত্রকে কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি’ ‘Democracy has never been given a chance in this country.’ আমার মনে আছে সে সময়ে ‘সংবাদ’-এ লেখা হয়েছিল ‘গণতন্ত্র কেউ কাউকে দান হিসাবে দেয় না, গণতন্ত্র সংগ্রাম করে পেতে হয়।’ আমার বক্তব্য এই যে, ভারত বিভাগের পূর্বে ইংরেজের তত্ত্বাবধানে একটা আইনের শাসন ও সীমিত আপাত-গণতান্ত্রিক পরিবেশ যে ছিল, পাকিস্তান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে সেটা উবে যেতে শুরু হয় এবং বাংলাদেশ হওয়ার পর যে সেটা একেবারে অন্তর্হিত হয়, তার পরিষ্কার ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিকা বর্তমান ছিল। একে আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা না করে কেবল জোড়াতালি, কেবল স্লোগানের মারফতে আমাদের জীবনে কোনো দিন কোনো ধরনের গণতন্ত্র আসবে না। আমার বক্তব্যটাকে আবার পরিষ্কার করে বলি, গণতন্ত্রের দর্শন ও মূল্যবোধ সম্বন্ধে আমাদের নেতৃত্বের ও কর্মীদের অজ্ঞানতা কিংবা জেনে শুনে পরিষ্কার অবজ্ঞা এদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বারবার ব্যর্থতার প্রধান কারণ। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হওয়ার পরই শহীদ সাহেব ঘোষণা করেছিলেন যে, করাচির মারফতে পূর্ব পাকিস্তানি পাকিস্তানকে শাসন করবে (East Pakistan will rule Pakistan through Karachi). শহীদ সাহেবকে এ ব্যাপারে বিশেষ দোষ দেওয়া যায় না। তিনি বরাবরই শক্তিশালী কেন্দ্রের পক্ষপাতী ছিলেন। জিন্নাহ সাহেবের ডিক্টেটরি মেজাজ সহ্য করতে না পেরে তাঁকে তিনি কিছুটা এড়িয়ে চলায় অবিভক্ত ভারতের একমাত্র প্রাদেশিক সরকারের স্থিতিশীল মুসলিম লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, দেশ বিভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কায়েদে আজম ও নওয়াবজাদা লিয়াকত আলীর প্রত্যক্ষ সমর্থনেই খাজা নাজিমুদ্দিন মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। কেবল তাই নয়, পাকিস্তানের জন্মের পূর্ব মুহূর্ত থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বেলেঘাটা থেকে শুরু করে একটার পর একটা মুসলমান বস্তি বিলীন হয়ে যাওয়ার মুখে এবং মুসলমানদের ধন-প্রাণ যখন বিপন্ন, তখন সোহরাওয়ার্দী সাহেব দুর্গত মুসলমানদের পাশে থেকে সাহস জোগাবার জন্য কলকাতায় থেকে গেলেন। মুসলিম সংখ্যালঘু প্রদেশগুলোর অন্যান্য মুসলিম লীগ নেতৃবর্গকে নিজেদের মুসলিম জনতাকে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার উন্মত্ত আক্রোশের মধ্যে ফেলে রেখে একেবারে তড়িঘড়ি পাকিস্তানে এসে ক্ষমতার শরিক হওয়ার চেষ্টায়রত হতে দেখা যায়। সোহরাওয়ার্দী সাহেব তা না করায় এবং তাঁর ব্যক্তিত্বকে ভয় করায় তাঁর গণপরিষদের সদস্যপদ বাতিল করা হয় এবং পরে যখন তিনি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন, তখন তাঁর উপস্থিতি রাষ্ট্রের পক্ষে বিপজ্জনক মনে করে তাঁকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। এসব কথা আজ সুবিধাজনকভাবে অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন। এ ঘটনার পরই জনাব সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে চলে আসেন এবং প্রথমে লাহোরেই আইন ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও জনাব সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের ঐক্যে, এমনকি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারেই বিশ্বাসী ছিলেন। নানাবিধ চাপের ফলেই তিনি একুশ দফা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবির শতকরা আটানব্বই ভাগ অর্জিত হয়েছে।’ কথাটা হয়তো রসিকতা ছিল; কিন্তু এতে যে মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, তা ঠিক গণতন্ত্রের প্রতি নিষ্ঠাবাচক নয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর আমাদের সব দলের নেতৃবর্গের আচরণ, গোলাম মোহাম্মদ, ইস্কান্দার মীর্জার হাতে তাঁদের পুতুল নাচ প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক আদর্শ ও মূল্যবোধ দূরে থাকুক, সাধারণ রীতিনীতির প্রতিও ন্যূনতম আনুগত্য দেখাবার ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। ক্ষমতার জন্য অশ্লীল আচরণেও তাঁরা পেছপা হননি। এ সময় থেকেই ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পাকিস্তানে চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করতে থাকে।

শেরেবাংলা জনাব ফজলুল হক সাহেব ও জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা আমার কারও চাইতে কম নয়। যেসব লোকেরা জীবিতকালে তাঁদের কুৎসা গেয়ে এখন তাদের গুণ গেয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন, আমি তাঁদের দলে নই। জনাব শহীদ সাহেবকে বহুবার আমি অনুনয় করেছি, আমাকে ডিকটেশন দিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর একটি আত্মজীবনী লেখার জন্য। কিন্তু রাজি হয়েও কাজের চাপে পারেননি। একমাত্র শহীদ সাহেবের আমলেই এদেশের জেলগুলো রাজবন্দিশূন্য ছিল। এ দু’নেতারই একটি মহৎ গুণ ছিল, তাঁরা দু’জনের কেউ-ই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিলেন না। মানুষ হিসেবে তাঁরা সত্যি সিংহহৃদয় ছিলেন। অনগ্রসর মুসলমানদের অবস্থার উন্নয়নে তাঁদের অবদানও অবিস্মরণীয়। তবু ব্যক্তিপূজা যে কেবল সমাজেরই ক্ষতি করে তা নয়, যাঁদের পূজা করা হয়, তাঁদেরও মর্যাদার হানি করা হয়। ফজলুল হক সাহেবের চরিত্রের কোনো সংজ্ঞা দেওয়াই কঠিন ব্যাপার। বাংলাদেশের মুসলমান এবং হিন্দু জনতার মনে তাঁর যে স্থান রয়েছে, তা কেউ টলাতে পারবে না কোনো দিন। সোহরাওয়ার্দী সাহেবও তাঁর বিভাগোত্তরকালের সংগ্রামী জীবনের দ্বারা আমাদের রাজনৈতিক জীবনে স্থায়ীভাবে একটি দুর্লঙ্ঘ্য শ্রদ্ধার আসন স্থায়ীভাবেই করে নিয়েছেন। তাঁদের বিরাট চরিত্রের যেসব অপূর্ণতার কথা উল্লেখ করলাম, সেগুলোর জন্য তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন। ঐতিহাসিক কারণেই এসব অপূর্ণতা আরও তীব্র আকারে গোটা মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যই বাসা বেঁধেছে। আলোচনাটা এ কিস্তিতে আর দীর্ঘ করলে সংবাদ-এর এ পৃষ্ঠায় আর কিছু ছাপা যাবে না। আমার এ লেখা থেকে যদি কেউ মনে করেন যে, আমি গণতন্ত্র বিরোধী, ভুল করবেন। গণতন্ত্র আমার কাছে একটা জীবনধারা, জনসাধারণকে ধাপ্পা দেওয়ার স্লোগান নয়। জনতারূপী ন্যাড়ারা বারবার বেলতলায় কেন যাচ্ছে, এ হেঁয়ালিটার জবাব আমি আরও দু’একদিন ধরে দেয়ার চেষ্টা করব। (সংক্ষেপিত)

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত