সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে বেরন এলাকার নারী ও শিশু হাসপাতাল, বাইপাইল বগাবাড়ি এলাকার সাহারা মর্ডাণ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ৪ টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন জামগড়া-বাগবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে এ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকার মো. ডালিমের ছেলে কাপ্তান (১৬) ও টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার পিটনা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জু মিয়া (১৮)।
এ ছাড়া মাথায় ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার লোহাগড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মো. শেখ আবু জাফর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যাবসা দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে কাপ্তান নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া মঞ্জু মিয়ার নামে গুলিবিদ্ধ আরেকজনকে বাইপাইল বগাবাড়ি এলাকার সাহারা মর্ডাণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই পক্ষের ছোড়া ইটের আঘাতে আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপি নেতা মো. বকুল ভূইয়া ও আশুলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. শরীফ চৌধুরীর সক্রিয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শরীফ চৌধুরীর ভাড়াটে সন্ত্রাসী শ্যূটার বাপ্পি, ঘার কাটা জুয়েল, তানভীর, রিপন, রুহুল ইসলাম মুন্সি ও মাইনুদ্দিন লিটনের নের্তৃত্তে শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্য হাতে পিস্তল, হকিস্টিক, বড় ছোড়া নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বকুল ভূইয়ার লোকজনকেও পাল্টা গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২ জন গুলিবিদ্ধসহ হামায় এবং ইটের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।
বিএনপি নেতা বকুল ভূইয়া বলেন, যুবদল নেতা শরীফ চৌধুরী ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমার ঝুট ব্যবসা দখলের পায়তারা করে আসছে। আজকে কারখানা থেকে ঝুট নিয়ে যাওয়ার সময় আমার লোকজনের ওপর গুলি করেছে এবং গাড়ি ভর্তি মালামাল আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আশুলিয়া থানার তাঁতি দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকা মহানগর উত্তর মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছি। কিস্তু বিএনপির সাবেক এমপির লোক হওয়ায় শরীফ চৌধুরী বারবার আমার ব্যবসা দখলের জন্য হামলা চালিয়ে আসছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার নামে ডিড করা থাকা সত্বেও তারা আমার মাল লুট করার চেষ্টা করে। যেদিক দিয়ে আমার মাল ভর্তি ট্রাক যায় সেখানে শরীফ চৌধুরীর বাড়ি। তারা ছাদ থেকে গুলি করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমার লেবারসহ কর্মচারীরা আহত হয়েছে। বর্তমানে আমি আতঙ্কে আছি, বিষয়টি সমাধানে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাই।
তবে হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শরীফ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. মোমিনুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
স্ত্রীর শাবলের আঘাতে স্বামীর মৃত্যু
বাগেরহাটের সাবেক এসপি কারাগারে
সন্ধ্যা থেকেই কাজ শুরু করবে ‘সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার’