গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ ১৫ মাসের যুদ্ধ বন্ধ হলেও ফিলিস্তিনের আকাশের কালো মেঘ দূর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখলের ঘোষণা বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত ছিটমহলটি নিয়ে নতুন শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় আরব দেশগুলো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর এবার গাজা প্রসঙ্গে জরুরি আরব সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মিসর এই সম্মলনের আয়োজন করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ফিলিস্তিন এ সম্মেলনের অনুরোধ জানিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে মিসর আরব দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়গুলোর সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শের পর এই সম্মেলনের ডাক দিয়েছে।
গতকাল রবিবার মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আসন্ন এই সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের জন্য গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আরব লীগের বর্তমান সভাপতি বাহরাইন এই প্রক্রিয়া সমন্বয় করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে করা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ। রবিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের জন্য সেখানকার ভূমি এবং এর আবেগগত, ঐতিহাসিক ও আইনগত বিষয়ে চরমপন্থি মানসিকতার দখলদাররা কখনোই বুঝতে পারবে না। সৌদি বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর নাম নেওয়া হলেও তার সৌদি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বিষয়ক মন্তব্যের কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে মিসর ও জর্ডান। ওই ধারণাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে কায়রো।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের নুর শামসেও সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার দখলকৃত ভূখণ্ডটিতে অভিযানের আওতা বাড়ানোর এ ঘোষণা দেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র। গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত ২১ জানুয়ারি পশ্চিম তীরের জেনিনে সন্ত্রাস-বিরোধী এক অভিযানে নামে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে লেবাননের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বেক্কা অঞ্চলের জেন্নাতা শহরের কাছে শারা এলাকা লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছে।
